স্টাফ রিপোর্টার : ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের’ দ্বিতীয় আসরে অংশ নিচ্ছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার শিশু-বিশোর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি দেশের ৫০৩টি উপজেলায় অনলাইনে উদ্বোধনী কার্যক্রম সম্প্রচার করা হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে খুলনা নগরী। শহরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামসহ ভিআইপি যাতায়াতের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নতুন করে সাজানো হয়েছে। নগরীর সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে স্থান পেয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দর, পাটকল, খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও শিল্পীদের পাশাপাশি খুলনার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে নানা গ্রাফিতি। নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সবচেয়ে বেশি সাজসজ্জা করা হয়েছে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে। এর দেয়ালে আঁকা হয়েছে স্থানীয় ঐতিহ্য, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিংড়ি চাষ ও জাতীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নানা বর্ণিল ম্যুরাল ও গ্রাফিতি। স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন দেয়াল। প্রবেশপথের মেঝেতে বসানো হয়েছে টাইলস। সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। নতুন সাজে তৈরি করা হয়েছে স্টেডিয়ামের মূল ফটকও। সেখানে অকর্ষণীয়ভাবে স্টেডিয়ামের নাম লেখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে লাগানো সব তোরণ ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেতাকর্মীদের লাগানো ফেস্টুন। এবারই প্রথম সরকার প্রধানের আগমনে যত্রযত্র তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। সেই স্থানে কেসিসির সুসজ্জিত আয়োজন বাড়তি একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে নতুন এক খুলনা শহর উপভোগ করছে মানুষ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে শিশু ও কিশোরদের খেলাধুলার প্রতিভা বিকাশে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এ এবার রেকর্ডসংখ্যক ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। যা দেশের ৫০৩ উপজেলায় সম্প্রচারিত হবে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে মোংলায় যাবেন। সেখানে তিনি কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পরবর্তীতে খুলনার সার্কিট হাউসে বিরতি নিয়ে বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরেবাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউস মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।”

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফর ও কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। গত ১২ দিনে প্রায় সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত ১২ দিন ধরে মহানগরীর প্রবেশপথের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উম্মুক্তস্থানের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যানার-তোরণ দিয়ে না ঢেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।”

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৫, ২০২৬)