সালথা প্রতিনিধি : সড়ক আছে, চলাচলের মানুষও আছে। সড়কটিতে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। কিন্তু সড়কের আধা কিলোমিটার অংশ কোন দপ্তরের অধীণে তা নিয়ে জটিলতায় আটকে আছে মেরামতের কাজ। ফলে পিচ উঠে তৈরি হওয়া গর্তের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষকে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর পালবাড়ি থেকে খারদিয়া বাজারের সেতু পর্যন্ত সড়কের এই অংশে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।
‎
‎এলাকাবাসী জানান, সড়কটির দুই পাশে অন্তত ২০টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষ সালথা উপজেলা সদরে যাতায়াত করে৷ এই পথ দিয়েই শিক্ষার্থীরা খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খারদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার কাজে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
‎
‎স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির আগে এলজিইডির অধীনে ছিল। পরে সালথা থেকে সোনাপুর হয়ে মোন্তার মোড় টু যদুনন্দী বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনায় এর আধা কিলোমিটার অংশ সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু আঞ্চলিক সড়কটি পরে অন্য পথে নির্মাণ করা হয়। এতে হস্তান্তর করা অংশটি সংস্কারের বাইরে থেকে যায়।
‎
‎সওজের আওতায় চলে যাওয়ায় এলজিইডি ওই অংশে কাজ করতে পারছে না। অন্যদিকে সওজও সেখানে সংস্কার করছে না। ফলে দুই দপ্তরের মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতার মাশুল গুনছেন সাধারণ মানুষ।
‎
‎সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাপুর পালবাড়ি থেকে খারদিয়া বাজারের সেতু পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তের মধ্যদিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান ও রিকশা।
‎
‎ভ্যানচালক সাইদুল কাজী ও আলিম মোল্যা বলেন, গর্তে ভরা সড়কটিতে ভ্যান চালানো এখন খুবই কষ্টকর ও বিপজ্জনক। খারদিয়ার বাসিন্দা তারা মিয়া বলেন, সড়কের আধা কিলোমিটার অংশের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতের খরচ বেড়েছে। পেঁয়াজ ও পাট পরিবহনের গাড়িও সহজে চলতে চায় না। একসময় স্থানীয়ভাবে টাকা খরচ করে সড়কের কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সড়কের পাশের বাসিন্দা সন্তস দাস জানান, এই পথে দুর্ঘটনায় পড়ে তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
‎
‎এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ফরিদপুর সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাফিজ তানজিম জানান, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে সড়কটির মালিকানা সংক্রান্ত কিছু জটিলতা থাকায় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশা করা যায়, উভয় দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করে সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া বলেন, বর্তমানে সড়কটি সওজের অধীনে আছে। সওজ যদি এলজিইডির অধীনে দেন তাহলে দ্রুত সংস্কার করা হবে।

(এএন/এসপি/নভেম্বর ০৫, ২০২৬)