টানা পতনের পর বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরায় সপ্তাহ শেষে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় দাম আরও বেশি কমেনি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জানুয়ারির সরবরাহ চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৫৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯ ডলার ৮৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলার ৬২ সেন্টে লেনদেন হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
তবে এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও পুরো সপ্তাহের হিসাবে বড় দরপতনের মুখে রয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার।
গত ৩০ অক্টোবর ডিসেম্বর মাসের সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ব্রেন্টের নতুন চুক্তির দাম এ সপ্তাহে প্রায় ১২ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।
অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমতে পারে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।
এর আগে বুধবার এক দিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়। এর প্রভাবে সেদিন ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অবসান কিংবা সংঘাতের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। এ কারণে তেলের দাম আরও দ্রুত কমছে না।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহের ঝুঁকির মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স।
(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৬, ২০২৬)
