সদরঘাট থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩০, উদ্ধার ইয়াবা-অস্ত্র
জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল থেকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতভর পরিচালিত এসব অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি, ছিনতাই মামলার আসামি, মাদক কারবারি এবং সিএমপি অধ্যাদেশে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ১০০ পিস ইয়াবা, একটি কিরিচ, একটি রামদা, একটি লোহার হুক ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে থানা পুলিশের বিভিন্ন দল এসব অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, ৫ নভেম্বর বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আইস ফ্যাক্টরি রোডের রেলওয়ে স্টেশন কলোনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে রুবেল হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদরঘাট থানায় মামলা হয়েছে।
একই দিন বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে আইস ফ্যাক্টরি রোডের কলেজিয়েট স্কুলের বিপরীতে রেলওয়ে স্টেশন কলোনিতে অভিযান চালিয়ে মো. শাহ আলম (২৫), তুষার হাসান (২২) ও তাজুল ইসলাম (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি কিরিচ, একটি রামদা, একটি লোহার হুক ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দস্যুতার অভিযোগে পেনাল কোডের ৩৯৪ ধারায় মামলা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার শাহ আলমের বিরুদ্ধে সদরঘাট, কোতোয়ালী ও রেলওয়ে থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, নারী ও শিশু নির্যাতন, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি জিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্র আইনের ১৯(এফ) ধারার একটি জিআর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মো. শাহ আলম ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিআর-৬২/২৬ মামলায় পরোয়ানাভুক্ত কবির আহাম্মদ সুজন ও মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, ৬ নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ভোর ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সাহেবপাড়া, কদমতলী ও পুরাতন কাস্টম রেলি কলোনি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় রাতের বেলায় সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়। পরে সিএমপি অধ্যাদেশের ৮৮(ডি) ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ১০৩ ধারায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সদরঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
(জেজে/এসপি/নভেম্বর ০৬, ২০২৬)
