জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ দিনের মজুদের উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার : শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ৯০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে সরকার।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ কথা জানান।
ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার পর্যায়ক্রমে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, নিজস্ব সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি।
বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি তেলের ট্যাংক নির্মাণ বা সংস্কার করতে পারলে মজুদ সক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। এতে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের সময় সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
বিপিসি জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত মজুদ সক্ষমতা ভাড়ায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদ অবকাঠামো সংস্কার করে চালু করা হবে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতার মজুদ সুবিধা ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিপিসি।
বিপিসি আরও জানায়, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের খালি জায়গায় অতিরিক্ত ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলে ৯ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলে ৫৮ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার নতুন সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সক্ষমতা ৭১ দিনে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার।
জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যার মাসিক গড় চাহিদা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।
বিপিসি জানায়, সংস্থাটির আওতায় পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলসহ ছয়টি কোম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতায় বর্তমানে ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুদ রাখা সম্ভব। তবে দেশের সামগ্রিক কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।
জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদ রাখার বিধান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনসহ (বিআরটিসি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৯, ২০২৬)
