নিউজ ডেস্ক : দুই যুগ ধরে ফিনানসিয়াল খাতে চাকরি করে চলেছেন জনৈক ভদ্রলোক। তিনটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। অবশেষে একটি কার্ডহোল্ডার অ্যাকাউন্ট সার্ভিসের ম্যানেজার হয়ে চলে গেলেন অন্য প্রতিষ্ঠানে। অর্থাৎ, কাস্টমার সাপোর্ট এবং ট্রাবল-শুটিং অপারেশনে যোগ দিলেন তিনি। তার দলে ছিল ৬৭ জন কর্মী।

এ ধরনের দল নিয়ে প্রথমবারের মতো কাজ করতে থাকলেন তিনি। ধীরে ধীরে হতাশা ভর করতে থাকলো তার ওপর। কারণ ক্রমেই তিনি লক্ষ্য অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকলেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা প্রক্রিয়া গ্রহণ করার পরও ব্যর্থ হলেন তিনি।

দুটো বড় আকারের মিটিংয়ের ব্যবস্থা করেন তিনি। সেখানে দলের উন্নতির জন্যে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বনের কথা বলতে থাকলেন। সব কর্মীরা তার দিকে তীব্র চাহনি হেনে বসে থাকলেন। তারপরও খুব বেশি এগোতে পারলেন না তিনি। এর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে মনে হলো, তার কর্মীরা সত্যিই বড় বেশি অলস।

দলের প্রত্যেক কর্মীর সঙ্গে আলাদভাবে কথা বললেন তিনি। যে সময় এখানে যোগ দিয়েছিলেন, একই সময় এ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়া কয়েকজনকে নিয়ে আলাদাভাবে মিটিং করলেন। কিন্তু তাদের কাছ থেকে খুব বেশি সাড়া মিলল না। অফিসের পরিবেশ সেই প্রথম থেকে যেমন ছিল, তেমনই থাকলো। সবাই ধীরগতিতে কাজ করতো। তার পাশ দিয়ে কোনো কর্মী যাওয়ার সময় তাকিয়ে সৌজন্য-সূচক হাসিটাও দেন না।

এই পদে কাজ করা থেকে বিরত থাকাও সম্ভব নয় তার পক্ষে। কারণ নতুন কোথাও যেতে পারছেন না তিনি। কিন্তু অফিসের ম্যানেজমেন্ট তাকে নতুন কিছুর জন্যে চাপ দিতেই থাকলেন। কিন্তু কর্মীদের থেকে সাড়া না মিললে কি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়? সেখানে তার তিন বছরের চাকরিতে কয়েকজনকে বাজে পারফরমেন্সের জন্যে ছাঁটাই করলেন। কয়েকজন অন্য চাকরিতে চলে গেলো। বাকি যারা থেকে গেলো, তারা সবাই দারুণ কর্মীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন।

অবশেষে বোধোদয় হলো তার। তিনি এই তিন বছর ধরে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু কর্মীদের কি দরকার তা বুঝতে চাইছিলেন না। কর্মীদের অলসতার পেছনে এটা বড় কারণ হিসেবে উঠে আসলো।

কাস্টমার সাপোর্টের চাকরি সব সময় চ্যালেঞ্জ। প্রধানকে বুঝতে হবে, যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে কর্মীদের সঙ্গে তা শেয়ার করতে হবে। ওই দুটি মিটিংয়ে তিনি যা করতে পারতেন তা হলো,

১. নেতার উচিত তার কর্মীদের সঙ্গে বসে প্রথমেই তাদের সমস্যার কথা শোনা। কর্মীরা প্রতিষ্ঠানে কি ধরনের পরিবর্তন চান তা আগে বুঝতে হবে। এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানে কোন ১০টি পরিবর্তন আপনারা চান?

২. পরিবেশ এমন করে তোলার চেষ্টা করুন যেখানে প্রত্যেক কর্মী তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে ভালো কিছু বয়ে আনতে ইচ্ছুক থাকবেন।

৩. একটি পার্টির আয়োজন হতে পারে। যেখানে নেতা তার কর্মীদের বলতে পারেন যে, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে চান। এ ক্ষেত্রে কর্মীরা কি ধরনের পরিবর্তন চান?

(ওএস/পিবি/জুন ০১,২০১৫)