গাইবান্ধা প্রতিনিধি :গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ১৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অল্প টাকায় নিম্নমানের শিক্ষা উপকরণ কিনে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, প্রতি ক্লাষ্টারের দায়িত্বরত ৮ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রধান শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন  একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ভ্যাট বাদ দিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে চার হাজার ৭৫০ টাকার শিক্ষা উপকরণ কেনার কথা। উপকরণের মধ্যে রয়েছে খেলনা গাড়ি, বল, পুতুল ও বর্ণসহ একাধিক আইটেম।

একাধিক প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ৮ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা তাদের অনুসারী কয়েকজন প্রধান শিক্ষক নেতাদের নিয়ে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করেন। পরে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কাছ থেকে বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া উপকরণগুলো পরিবহনের জন্য কোন যাতায়াতের টাকা দেওয়া হয়নি। ফলে দুর-দুরান্তের বিদ্যালয়ের প্রধানরা পকেটের টাকা খরচ করে উপকরণগুলো ভ্যান-রিক্সার মাধ্যমে নিয়ে যান।

সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একাধিক প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ক্রয় করা উপকরণগুলো নিম্নমানের। এসব উপকরণের দাম খুব বেশি হলে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা হবে। এ বছর নিম্নমানের উপকরণ কিনে সাদুল্যাপুর উপজেলার ১৯৪টি বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরাই উপকরণগুলো ক্রয় করেছেন। দায়িত্বরত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এসব উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তবে উপকরণগুলো নিম্নমাণের হওয়ার সুযোগ নেই। এব্যাপারে আমার কোন হস্তক্ষেপ ছিলনা। তবে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


(এএসবি/এসসি/সেপ্টেম্বর২০,২০১৫)