বান্দরবান প্রতিনিধি :পবিত্র রমজানে মানুষের দুর্ভোগ ও স্থানীয় লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে অবরোধ কর্মসুচী সাময়িক স্থগিত করেছে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ।

জামছড়ি থেকে অপহৃত আওয়ামীলীগ নেতা মং ফু মেম্বারের মুক্তির দাবিতে গত ২দিন লাগাতার সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসুচী পালন করে আসছিল জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

জনসংহতি সমিতির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক গত সোমবার রাতে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ক্রা নু মারমার বাসা থেকে অপহৃত হয় সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মং ফু মারমা।

বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর জানান, পবিত্র রমজানে ২ দিনের চলামান অবরোধ কর্মসুচীতে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও দুর্ভোগ বেড়েছে। সেই সাথে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অবরোধ কর্মসুচী শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী কাল শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক ও নৌ পথ অবরোধ কর্মসুচী সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অপহৃতকে জীবিত উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কঠোর কর্মসুচী দেয়া হবে।

অবরোধ কর্মসুচী পালন শেষে বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান, একেএম জাহাঙ্গীর, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ ইসলাম বেবী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সামশুল ইসলাম, যুবলীগের আহবায়ক মোঃ হোসেনসহ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা ছাড়াও শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা গুরুত্বপুর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়ায় অবরোধ কর্মসুচী অত্যন্ত কঠোর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। এই অবরোধ ৯০ এর অসহযোগ আন্দোলনকেও হার মানিয়েছে। এই ২দিন বান্দরবান পুরো জেলা অচল হয়ে পড়েছিল। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাজার ও রাস্তা ঘাটে লোকজনের তেমন উপস্থিতি ছিল না। ফলে দোকান-পাট খোলা থাকলেও তারা বেচা-বিক্রি করতে পারেনি বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আজিজ।






(এএফবি/এস/জুন ১৬,২০১৬)