সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  : দু’ দিনের অবিরাম বর্ষণে সাতক্ষীরার সাত হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। এছাড়া তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন , বীজতলা ও সব্জী ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ ছাড়া  মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ায় তালা উপজেলার বেশ কিছু এলাকার গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে গেছে। 

বৃষ্টির পানিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাতক্ষীরা পৌর এলাকার কামাননগর, কাটিয়া, রথখোলা, বদ্যিপুর, মধুমোল্লারডাঙি ও কুখরালি এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিমগ্ন হয়ে পড়েছে। অপরদিকে তালা উপজেলার দোহার , বারুইহাটি, জালালপুর, আটুলিয়া , গোপালপুর, খলিলনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে পানি ঢুকেছে। এছাড়া তালা উপজেলা সদর পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির সঙ্গে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় শাহপুর বচতলার সেই পুরাতন বটগাছটি উপড়ে প্রশান্ত সরকারে মুদি দোকানের উপর পড়েছে। আঠার মাইল - পাইকগাছা সড়কের তালার অংশে মেহগনি, সৃষ্টিফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ ছাড়া ঝড়ে গোপালপুর, তালা সদর, খলিলনগর, বারুইহাটিসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাড়িতে পেয়ারা, মেহগণি, সজিনা, সবেদাসহ বিভিন্ন গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে। এদিকে কপোতাক্ষ নদের জোয়ারের সাথে বৃষ্টির পানির চাপে শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন ইউনিয়ন গাবুরার কালিবাড়ির মন্দিরের পাশ থেকে দেড়শ’ ফুট রাস্তা ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে ভাঙ্গন রোধে ইউপি চেয়ারম্যান আলি আজম টিটো চার শতাধিক শ্রমিক নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে মুসলিমনগর থেকে নাপিতখালি পর্যন্ত ৩০০ ফুট এলাকা ও চৌদ্দরশি বাজার থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত রাস্তার ইট পানিতে ধসে যাওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর , আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে। সেখানে ভাঙ্গনরোধে গ্রামবাসী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বিরামহীন বৃষ্টিতে জেলার সব উপজেলার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, ৪৮০ হেক্টর জমির সাত হাজার মাছের ঘের উপচে অন্ততঃ দশ কোটি টাকার মাছ বেরিয়ে গেছে । একইভাবে কাঁকড়া খামারগুলি থেকেও কাঁকড়া উঠে গেছে। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে জেলায় তিন হাজার হেক্টর শুধু মাত্র ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মোঃ মহিউদ্দীন জানান, সার্বিব অবস্থা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাৎক্ষনিক তা বিতরণ করা হবে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, মঙ্গলবার থেকে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলায় ১৪৪ সে.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

(আরএনকে/এস/আগস্ট১০,২০১৬)