রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে  নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ১২টার দিকে পুলিশ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর গ্রামের জনৈকা ডালিয়া বেগমের বাড়ির উঠান থেকে পুলিশ ওই ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভাির্ত করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রাকাটি গ্রামের শওকত সানার ছেলে সোহারাব হোসেন সানা (৪০) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (১৮)।

প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি গ্রামের এক চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ি সোহরাব হোসেন সানা এক প্রতিবেশির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। বন্ধুর বাড়িতে অবাধ যাতায়াতের কারণে বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সোহরাব সানা। এ নিয়ে আপত্তি ওঠায় উভয়পক্ষকে সতর্ক করা হয়। এরপরও তারা কোন বাধা মানত না।
সোহারাব তার শহরের মুনজিতপুরের বাড়িতে মাঝে মধ্যে বেড়াতে নিয়ে আসতো ওই গহবধুকে।
তিনি আরো জানান, সোহরাব হোসেনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার কারণে ওই গৃহবধুর অষ্টম শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে সাতক্ষীরা থেকে নতুন জামা কাপড় কিনে দেওয়ার নাম করে শনিবার সকালে বাড়ি থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে সোহরাব সানা। সন্ধ্যার পর এল্লারচর সরকারি মৎস্য খামারের পাশে একটি বাড়িতে নিয়ে আসা হয় ওই স্কুল ছাত্রীকে। পরে তাকে সোহরাব হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা বালিথা গ্রামের হাশেম আলীর ছেলে নুরুল হক ও একই গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে ওবায়দুল ইসলাম পালাক্রমে ধর্ষণ করে অচেতন অভস্থায় পার্শ্ববর্তী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ডালিযা বেগমের বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল কাদের জানান, ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানাীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ সময় স্থানীয়রা সোহরাব হোসেন ও মোস্তাফিজুরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পালিয়ে যায় নুরুল হক ও ওবায়দুল ইসলাম। ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামরুল ইসলাম ওই স্কুল ছাত্রীর গণধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন মোল্ল্যা জানান, স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডালিয়া বেগম , লিলি খাতুনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মেয়েটি সুস্থ হলে আদালতে তার ২২ ধরায় জবানবন্দি রেকর্ড করনো হবে।



(আরএনকে/এস/আগস্ট২১,২০১৬)