পদ্মা সেতুর মাঝিরঘাট পূনর্বাসন কেন্দ্র
মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েক শত পরিবার : পর্ব ৩
কাজী নজরুল ইসলাম, শরীয়তপুর থেকে :
অবশেষে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মানের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে অচিরেই। ফলে বাপ-দাদার ভিটে মাটি ছেরে অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। পদ্মা সেতুর জাজিরা পয়েন্টে দুটি পূনর্বাসন এলাকা নির্মান করা হলেও একটিতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অপরটির বাসিন্দারা কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে পুরোনা ঘর বাড়ি ভেঙ্গে এখন খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ছে বৃষ্টিতে ভিজছে শতাধিক পরিবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শরীয়তপুরের জাজিরায় প্রায় ১ হাজার ১ শত একর জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার। সেতু নির্মানের কন্সট্রাকশন স্টক ইয়ার্ড, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, পদ্মা রিসোর্ট এলাকা, টোল প্লাজা, রেল ষ্টেশন ও দুটি পূনর্বাসন কেন্দ্র নির্মান করা হবে অধিগ্রহনকৃত এ ভূমির উপর। নির্ধারিত কাজ গুলোও এগিয়ে চলেছে পুরোদমে। শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৬ টি পূনর্বাসন কেন্দ্র নির্মান করা হয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে রযেছে দুটি। ২টি পূনর্বাসন এলাকার মধ্যে একটি রয়েছে জাজিরার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নে এবং অপরটি পূর্ব নাওডোবা মাঝিরঘাট এলাকায়। পশ্চিম নাওডোবা পূনর্বাসন কেন্দ্রে আড়াই শতাংশ, ৫ শতাংশ ও সাড়ে ৭ শতাংশ করে তিনটি ক্যাটাগরিতে প্লট রয়েছে ৫১৪টি। এ পূনর্বাসন কেন্দ্রটি নির্মান করা হয়েছে সম্পূর্ন আধুনিকতার আদলে। এখানে সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির একটি ছাপ পাওয়া যায়। অপর দিকে মাঝিরঘাট পূনর্বাসন কেন্দ্রে রযেছে ৫৫২টি প্লট। নাওডোবা কেন্দ্রের অধিকাংশ প্লটপ্রাপ্ত অধিবাসিরা তাদের প্লট বুঝে নিলেও মাঝিরঘাট কেন্দ্রে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৪ জন। এলাকাবাসী বলেছেন এক সময় তাদের ফসলী জমি ছিল, গৃহস্তালি ছিল, গবাদীপশু হাস মুরগী পালন করতো। এখন পূনর্বাসনে যতটুকু জমি দেয়া হয়েছে তাতে ঘর তুললে বারান্দা তোলার জায়গা থাকছেনা। ভবিষ্যতে কোন গৃহস্তালি করারও সুযোগও থাকবেনা।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, মাঝিরঘাট পূনর্বাসন কেন্দ্র সংলগ্ন কন্সট্রাকশন ষ্টক ইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দারা আগে থেকেই জানতেন তাদের অধিগ্রহনকৃত জমি-বাড়ি এক সময় ছেড়ে দিতে হবে। তার জন্য তারা আগাম নোটিশও পাবেন। কিন্তু হঠাৎ গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে কোন রকম নোটিশ প্রদান ছারাই আইন প্রনেতা এক জনপ্রতিনিধি ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন স্ব-শরীরে হাজির হয়ে এলাকাবাসীকে জানালেন, ১০ দিনের মধ্যে যার যার ঘর ভেঙ্গে পূনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে। কারন, পদ্মা সেতু নির্মানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না ব্রীজ কর্তৃপক্ষ তাদের নির্মান সামগ্রী নিয়ে ৩০ জুনের মধ্যে এ ষ্টক ইয়ার্ডের দখল নিবে। এলাকাবাসী রমজান মাস পর্যন্ত তাদের বসত বাড়িতে থাকার অনুমতি চাইলেও জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে তাদের বাধ্য করা হয়। একদিকে রমজান মাস আরেক দিকে টানা বর্ষনের মধ্যে লোকজনেরা তাদের ঘর ভাঙ্গতে শুরু করে। এলাকায় কাঠ মিস্ত্রির সংকট থাকায় উচ্চ মুজুরী হারে গোপালঞ্জ জেলা থেকে মিস্ত্রি এনে ঘর পূনস্থাপন করছে। পূনর্বাসন এলাকায় যারা ঘর তুলছে তাদের কারো নামেই নির্ধারিতভাবে প্লট বরাদ্দ হয়নি এখনো। তার পরেও এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি যাকে যেভাবে যেখানে দেখিয়ে দিচ্ছে সে সেখানেই ঘর তুলছে। অদুর ভবিষ্যতে এই বসতি আবার সড়িয়ে নেয়া লাগতে পারে বলেও আশংকা এলাকাবাসীর। সরকারের সিদ্ধান্ত মতে যারা তাদের ঘর স্থানান্তরিত করবে তাদের ঘর ভাঙ্গা এবং স্থানান্তর করা উভয়রেই খরচ সরকার বহন করবে। এর জন্য প্রতি বর্গ ফুটে ১৭ টাকা হারে প্রদান করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ২ শতাধিক পরিবার তাদের ঘর বাড়ি সড়িয়ে নিয়ে পূনস্থাপন করলেও সরকার তাদের একটি টাকাও পরিশোধ করেনি এখনো। পূনর্বাসন এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ, শৌচারগার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব থাকার কথা থাকলেও কিছুই স্থাপন করা হয়নি এখনো। ফলে অন্তত দুই শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে এ পূনর্বাসন কেন্দ্রে।
হাজী মোহর আলী মাদবর কান্দি গ্রামের কদম আলী শেখ এর স্ত্রী ফয়জুন নেছা, জাহাঙ্গীর হোসেনর স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, পদ্মা সেতুর জন্য সরকারের হাতে আমাদের সবটুকু স্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করেছি। ৪/৫ বার করে আমাদের বাস্তু ভিটা সরাতে হয়েছে । তার পরেও এখনো আমাদের নামে পূনর্বাসন কেন্দ্রে এক চিলতে প্লট জোটেনি । আমরা এখন কোথায় যাব।
হাজী সলিমুদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের নেছার উদ্দিন টেপা, আবুল হোসেন বেপারী, আব্দুল লতিফ ফকির কান্দি গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, আমাদের সাত পুরুষের ভিটে মাটি, ফসলী জমি সব কিছুই সেতু নির্মানের জন্য ছেরে দিয়েছি। এখন পূনর্বাসন কেন্দ্রে আমাদের কাউকে আড়াই শতাংশ কাউকে ৫ শতাংশ জমির উপর ঘর তোলার জন্য মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়েছে। এত কম জায়গায় ঘর তুললেও বারান্দা দিতে পারছিনা। তোন গবাদি পশু পালন করতেও পারবো না, পারবো না একটু সব্জি চাষ করেও খেতে। আমরা এখন পরেছি উভয় সংকটে।
নাওডোবা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল লতিফ ফকির বলেন, আব্দুর বর সরদার, জয়নাল আবেদীন ঢালী ও ক্ষতিগ্রস্ত ইদ্রিস আলী মুন্সি বলেন, প্রশাসনের লোকেরা এবং আমাদের এমপি সাহেব ১০ দিনের সময় বেধে দিয়ে আমাদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলে আমাদের পুরোনো ঘর ভেঙ্গে পূনর্বাসনে ঘর তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস সময় পার হয়ে গেলেও আমাদের জন্য কোন কিছুই করা হয়নি এখনো। আমরা অনেক পরিবার এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। পয়োনিষ্কাশনের সমস্যা এখন প্রকট। খাবার পানি ও গোসল করারও সমস্যা । আমরা যেভাবে এখানে আছি তাতে বস্তির চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছি। তারা আরো বলেন, আমাদের কারো নামে এখনো প্লটের দলিলপত্র দেয়া হযনি। যেখানে ঘর তুলছি সেখান থেকে কয়দির পরে তাড়িয়ে দিলে আমরা কোথায় যাব।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, আমরা শুধুমাত্র সেতু বিভাগের নির্দেশ ও পরামর্শ মোতাবেক তাদের সহায়তা প্রদানের মত দায়িত্ব পালন করছি। পূনর্বাসনের বিষয়ে সকল সিদ্ধানই গ্রহন করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। যাদের নামে প্লট বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে, তাদের থেকে এখনো কোন অভিযোগের আমার দপ্তরে আসেনি।
(কেএনআই/অ/জুলাই ২৩, ২০১৪)
পাঠকের মতামত:
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
- শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ
- মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে গেজেট প্রকাশ
- সুন্দরবনে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়
- দিনাজপুরে নদীতে ডুবে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ৪ সহপাঠী আটক
- কালিগঞ্জের এআই ক্লিনিকে ডাঃ তানিয়ার ভুল সিজারে রোগী সাবিনার মৃত্যু
- পাংশায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী গ্রেফতার
- ‘১০ টাকায়’ সিম কিনে প্রতারণার ফাঁদে আসমা!
- লৌহজংয়ে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ বিনষ্ট
- রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি
- মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনে নিখোঁজ অনন্তের সন্ধান চেয়েছেন সহপাঠিরা
- সাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়িচালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিআরটিএর প্রশিক্ষণ কর্মশালা
- সাতক্ষীরায় বস্তিবাসীদের আবাসন সংকট সমাধানে সংলাপ, ৮ দফা সুপারিশ
- সাতক্ষীরায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর চাঁদা আদায়, গ্রেপ্তার ১
- শিক্ষার্থী চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন
- বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে রাজশাহীতে ‘বাংলা কিউআর’ কর্মশালার আয়োজন
- যে রক্তের দাগ মোছেনি : ২১শে আগস্ট থেকে ২০২৪’র রক্তাক্ত পরিক্রমা
- কলকাতার হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সাজু ও রেবতীর মৃত্যু
- ট্রানজিট নোড থেকে নিয়ম-প্রভাবক: বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত শক্তি
- উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের আলোচনায় সরকার
- মাঠে ঘাম ঝরছে, চোখে জাতীয় দলের স্বপ্ন সিরাজগঞ্জের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েদের
- ডাক্তারের অবহেলার সিজারিয়ান রোগীর মৃত্যু
- কলাপাড়ায় বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা
- সুবর্ণচরে মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী র্যালি সমাবেশ
- বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না দুই শিশুর, ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল বাবার প্রাণ
- ‘শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্প গোটা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত’
- কলাপাড়ায় সাবেক সেনা সদস্যের স্ত্রীকে হাত-পা-মুখ বেঁধে হত্যা করে ঘরের মালামাল লুট
- পাংশায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস অনুষ্ঠিত
- পঞ্চগড়ের দ্বারিকামারি মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- তাড়াশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নজরুল হাসানের গণসংযোগ শুরু
- টুনিরহাট গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টুস্টার বোদা
- ঝালকাঠি থানা হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা!
- নীলফামারী চেম্বার নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের পূর্ণ প্যানেলে জয়
- বায়ুদূষণ রোধে ৯ নির্দেশনা ৩ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন চান হাইকোর্ট
- ভৈরবে সড়ক দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান
- ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪
- সাতক্ষীরা সদরের অদম্য নারী পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের আত্মকথা
- পঞ্চগড় টুনিরহাট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
- অভিজ্ঞতা, সততা ও উদ্যমে প্রীতম সাহার সাফল্যের নতুন অধ্যায়
- নেতৃত্বের গল্প শোনাতে তানজানিয়া যাচ্ছেন শ্যামনগরের অপর্ণা মল্লিক
- পঞ্চগড় সোহান স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শনিবার
- তজুমদ্দিনে মেজর হাফিজকে গণসংবর্ধনা
- কলাপাড়ায় পাচারকালে ইলিশসহ ২৭ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’র শুরুটা আশা জাগানিয়া
- মোড়লের ক্ষমতা আর নেই, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
-1.gif)








