E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীর তাণ্ডব 

খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা লাওয়ারিশ সম্পত্তি দখল, ভাঙচুর-লুটপাট, ৩০০ ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদ

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৮:৩৭:৪৮
খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা লাওয়ারিশ সম্পত্তি দখল, ভাঙচুর-লুটপাট, ৩০০ ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বাংলাদেশের সপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদেশে স্বত্বহীন হয়ে যাওয়া কথিত জমির মালিকরা আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা যৌথ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সহায়তায় সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা লাওয়ারিশ সরকারি সম্পত্তি গত ২৪ আগষ্ট সোমবার জবরদখল করেছে। এ সময় প্রায় তিন শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের ছোট বড় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে ওইসব ভূমিহীনদের। হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। সরকারি জমি জবরদখলকারিদের পক্ষে প্রতিদিন ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে।

দেবহাটার বেজরাটি গ্রামের ভূমিহীন নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদেশে স্বত্বহীন হওয়া ভূমিহীন নেতা কামরুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামী আইডিয়ালের পরিচালক দেবহাটার সখীপুরের ডাঃ নজরুল ইসলাম, একই হত্যা মামলার আসামী শিমুলিয়া গ্রামের গোলাম ওয়ারেশ কাজী, তার ছেলে সুরুজ কাজী, আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদ, সখীপুরের আব্দুল আজিজ, রামনাথপুরের আব্দুল আলিমসহ একটি জালিয়াতি চক্র কৌশলে খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা জমি নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আরিজুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের পক্ষে চুক্তিপত্র করে দেন। এরপর থেকে হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে তিনিসহ ভূমিহীনদের বেশ কয়েকটি পরিবার খলিষাখালিতে বসবাস করে আসছিলন। ওই জমি থেকে ভূমিহীনদের যাতে প্রশাসন উচ্ছেদ করতে না পারে সেজন্য ভূমিহীন নেতা আনারুল ইসলামের হাইকোর্টে দায়েরকৃত ১৫০০/২২ নং রিট দায়ের করার পর বর্তমানে স্থিতাবস্থা(স্টাটাস- কো) বহাল রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারীর পর থেকে ভূমিহীনদের একটি অংশের তিন শতাধিক পরিবার ঘর বেঁধে ও মাছ চাষ করে সেখানে বসবাস করে আসছিলো। ভূমিহীনরা কিভাবে কোন অধিকার নিয়ে সেখানে অবস্থান করছে তা খোঁজ নিতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুকিত খান গত বছরের ৭ মে খলিষাখালিতে আসেন। ৯ মে তাদেরকে তার (মুকিত) অফিসে কাগজপত্রসহ দেখা করতে বলেন।

সে অনুযায়ি তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদেশ ও ভূমিহীনদের পক্ষে স্টাটাস-কো আদেশ তাকে দেখান। এরপরও ওই জমির মালিক স্বত্বহীন জমির মালিক দাবিদারদের বলে উল্লেখ করেন। একপর্যায়ে পুলিশি সহায়তায় চলতি বছরের ২০ মে সোমবার ভোরে ওইসব কথিত মালিকরুপী ভূমিদস্যুরা তাদের প্রতিপক্ষ ভূমিহীন নেতা আকরাম, কালু , সাইফুল, বক্কার,,মোকরেম শেখ, তার পোতা ইসমাইল রিয়াজুল ইসলাম, ফিরোজুলসহ ৫০ জনেরও বেশি লোক খলিষাখালীর রাস্তার পাশে নোড়ার চকের বাসিন্দা আবুল হোসেন, তার ছেলে রাজু, অরিফ, রিপন, রিয়াজুল, রবিউল, তোকাম, তৈমুর, চালতে তলার মজিদসহ কমপক্ষে ২০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। হামলায় আবুল হোসেনের স্ত্রী ভাদ্দুরী, কামরুল হত্যা মামলার আসামী রবিউলের মা খাদিজা, তার ভাই তৈমুরের স্ত্রী তুলি , চালতেতলার মজিদের স্ত্রী সখিনাসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। এদের মধ্যে ভাদ্দুরি, তুলি ও খাদিজাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও কয়েকজনকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেনাাবাহিনীর সদস্যরা খলিষাখালিতে যায়।

সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পরপরই তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনরা ওইদিন বিকেলে তাদের নিজ নিজ জায়গায় বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তার ওই জনপদে শান্তিপূর্ণ দখলে ছিলেন।
তিনি আরো জানান,গত ২৪ আগষ্ট ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়িসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বাবুরাবাদ, চালতেতলা,বদরতলাসহ খলিষাখালির নিকটবর্তী এলাকায় টহল দিচ্ছে মর্মে তিনি জানতে পারেন। বিষয়টি তিনি নেতাদের জানান। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদেশে স্বত্বহীন হওয়া ভূমিদস্যু ডাঃ নজরুল, সুরজ কাজী, গোলাম কাজী, সখীপুরের আব্দুল আজিজ, আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদসহ কয়েকজনের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আকরাম, গফুর, কালু, মকরেম শেখ,সাইফুলসহ শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী নোড়ার চকের আবুল হোসেন ও তা তিন ছেলে, রবিউল ইসলাম, রিয়াজুল, চালতেতলার গোলাপ ঢালীসহ বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় ইয়াছিন, আবুল হোসেন, ভাদ্দুরি,শরিফুলসহ কমপক্ষ ১৫ জন আহত হয়। উচ্ছেদ করা হয় তিন শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে। জবরদখলকারি ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুকিত হোসেন খান এর পরিকল্পনায় বর্তমানে জবরদখলকারি ভূমিহীনদের রক্ষায় প্রতিদিন খলিষাখালি এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জবরদখলকারিদের পক্ষে অংশ নেওয়া কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চুক্তি অনুযায়ী মালিক দাবিদাররা এক হাজার বিঘা নিয়ে ৩০০ বিঘা তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ওই জমির কাগজপত্র ও খাজনা জমির মালিকদের অনুকুলে বলে গত ২০ মে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুকিত হোসেন খান।

এ ব্যাপারে দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার সুধীন সরকার জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। খলিষাখালির জমির খাজনা কতসাল পর্যন্ত আপডেট আছে তা তার স্মরনে নেই। এখন বাংলা ২৪৩২ সাল চলমান।

তবে পারুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক তহশিলদার শর্মিষ্ঠা সরকার জানান, ১৪২৯ সাল পর্যন্ত খাজনা আপডেট আছে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে স্বত্বহীন জমির মালিকদের খাজনা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরার জেলার সরকারি কৌশলী ( জিপি) অ্যাড. অসীম কুমার মণ্ডল (১) জানান, খলিষাখালির ১৩১৮ বিঘা জমি লাওয়ারিশ মর্মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি যে আদেশ দিয়েছিলেন তাতে ওই জমির মালিকানা থাকার কথা নয়। ওই জমি যদি প্রশাসনের সহায়তায় স্বত্বহীন জমির মালিকরা দখল করে থাকলে যথাযথ কাগজপত্রের আলোকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুকিত হোসেন খান বিশেষ সুবিধা ও পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে বলেন, ২৪ আগষ্ট পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খলিষাখালি এলাকায় যায়। এ সময় সেনাবাহিনীও টহলে ছিল। ভূমিহীনদের পক্ষে হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশন দেখিয়ে তাতে যে স্টাটাস-কো এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বিবাদী ও জমির তপশীলের উল্লেখ নেই। এ ছাড়া জমির মালিক দাবিদারদের বাংলা ১৪২৯ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ আছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এত দিনেও জেলা প্রশাসন কার্যকর করেনি। সে কারণে খলিষাখালির ওই জমি মালিক দাবিদারদের বলে মনে হয়েছে। ফলে তারা দখল করেছে। কয়েক মাস আগেও তারা দখলে গেলে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামীরা তাদেরকে উচ্ছেদ করে। জমির মালিক দাবিদার আইডিয়ালের পরিচালক ডাঃ নজরুল,কাজী গোলাম ওয়ারশ,কাজী সুরুজ,আব্দুল আজিজ,আব্দুল আলীম গত বছরের পহেলা নভেম্বর ভূমিহীন কামরুল হত্যা মামলার আসামী হয়েও কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে,তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক অ্যাড. অন রেকর্ড ও প্রধান বিচারপতির আদালতে খলিষাখালির রিভিউ ৪৬৮/২১ নং মামলা পরিচালনাকারি অ্যাড. হরিপদ পাল জানান, গত বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান যে রায় দিয়েছিলেন তাতে জমির মালিক বলে কিছু নেই। ওই জমি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জেলা প্রশাসক কেনো ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ২০ (ক) ও ৯০ (ক) ধারায় মামলা করে জমি খাস করে মালিক দাবিদারদের এসএ রেকর্ড বাতিলের উদ্যোগ নিলেন না সেটা তার বোধগম্য নয়।

প্রসঙ্গত, জাল জালিয়াতের মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরী করে দেবহাটার শিমুলিয়ার কাজী গোলাম ওয়ারেশ, সখিপুরের আব্দুল আজিজ ও একই এলাকার বেসরকারি সংস্থা আইডিয়ালের পরিচালক নজরুল ইসলাম, পারুলিয়ার ইকবাল মাসুদসহ বেশ কয়েকজন ভূমিদস্যূ চণ্ডিচরণ ঘোষের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি দখল করে আসছিলো। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের দায়েরকৃত ১৮/১০ নং মামলায় ২০১২ সালে সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলাা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক এএইচ এম মাহামুদুর রহমান খলিষাখালির ৪৩৯দশমিক ২০ একর জমি লাওয়ারিশ বলে রায় দেন। মতামতে তিনি উল্লেখ করেন যে, জমির মালিকানা দাবি করে এসএ রেকর্ড সৃষ্টিকারি ডাঃ নজরুল, গোলাম কাজী, আব্দুল আজিজ, ইকবাল মাসুদ, রেজাউলসহ শতাধিক ব্যক্তি ওই জমির মালিকানার স্বপক্ষে যে সকল কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন তা জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট। যে বিনিময় দলিল তারা উপস্থাপন করেছেন তার ৬০,৬১ ও ৬২ নং পাতার হাতের লেখার সাথে অন্যান্য পাতার হাতের লেখা ভিন্ন। একটি বয়নামা দলিলের ফটোকপি জমা দেয়া হলেও মূল কপি জমা দেওয়া হয়নি। খাল,কালভার্ট ও রাস্তা খাস খতিয়ানের হলেও তা মালিকপক্ষ এসএ রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। একই আদেশে ওই জমি লাওয়ারিশ ঘোষণা করে অ্যাড. কুণ্ডু বিকাশ চৌধুরীসহ দুইজনকে রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়। জজ কোর্টে রিভিশন করে মালিক দাবিদাররা হেরে যান।

২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই জমি লাওয়ারিশ হিসাবে ঘোষনা করে। এরপর ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে সাপমারা খালের দুই ধার থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৮০০ পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছিলো। প্রশাসন যাতে তাদের উচ্ছেদ না করতে পারে সেজন্য ভূমিহীনদের পক্ষ থেকে মহামান্য হাইকোর্টে ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৫০০/২২ নং রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়। আদালত ভূমিহীনদের বসবাসের সুবিধার্থে স্থিতাবস্থা জারি করে। যাহা আজও চলমান। স্থিতাবস্থা জারি থাকার পরও ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালিন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামানের সহায়তায় ভূমিদস্যুরা ভূমিহীনদের ৭৮৫টি বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

এর আগে ভূমিদস্যূদের দায়েরকৃত মামলায় খালাস পাওয়া আসামী শরিফুল, কামরুল (শুক্রবার নিহত) ও মুর্শিদকে আদালত থেকে ধরে এনে ডাকাতির চেষ্টা ও অস্ত্র মামলায় কোর্টে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও নির্যাতনের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁকে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড় ১০ টায় শহরের পিএন হাইস্কুল এর পাশ থেকে তুলে নিয়ে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালান তৎকালি পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান। এ সময় রঘুনাথ খাঁর নামে একটি নাশকতা ও একটি চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়। ভূমিহীন ইউনুসকে বদরতলা মাসের সেট থেকে তুলে এনে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে জমির মালিক দাবিদাররা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে ৪৬৮/২১ নং সিভিল রিভিউ পিটিশন দাখিল করলে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি ওই রিভিশন খারিজ করে দেন। এরপরও তারা নলতার চেয়ারম্যান আরিজুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, পারুলিয়ার চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, নওয়াপাড়ার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম সহ একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে সমঝোতা করে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করার জন্য দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছিলো। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর তারা বোমা ও গুলি ছুঁড়ে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। গুলিতে মনিরুল ও আল আমিন জখম হন। এ ছাড়া কমপক্ষে ৩০ জন ভূমিহীনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। নোড়ার চকের আবুল হোসেনসহ কমপক্ষে ৩০ টি ভূমিহীনের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আরিজুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে তিনি ও আবুল হোসেনের স্ত্রী থানায় একটি এজাহার দিলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুর হাসানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদেস্যর বিচারপতিদের বেঞ্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ ওই জমি লাওয়ারিশ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসককে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবসা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও গত দেড় বছরেও তা কার্যকর না করায় গত বছরের পহেলা নভেম্বর কামরুলকে পিটিয়ে হত্যা সহ ২০ জনকে পিটিয়ে জখম করতে সাহস পায় আরিজুল বাহিনী। এ মামলায় আরিজুল ইসলাম, গোলাম ফারুক বাবু, সিরাজুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পান। সাংবাদিক হাবিবুর রহমান কয়েক মাস কারাগারে আছেন। ভূমিহীন নেতা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুদের দায়েরকৃত কয়কটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে কামরুল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দিন রিমান্ডে নেন বর্তমান দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এই বিষয়ে ভূমিহীনরা গত বছরের ৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনা ক্যাম্পে স্মারকলিপি দেয়। এরপরও সেনাবাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খলিষাখালিতে অভিযান পরিচালনা শেষে চেয়ারম্যান আরিজুল, গোলাম ফারুক বাবু, আইডিয়ালের নজরুল, সুরুজ কাজী, মাছ আনারুল ও ইকবাল মাসুদের নেতৃত্বে ভূমিহীনদের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় ভূমিহীন নেতা কামরুল ইসলাম নিহত হন। তিনিসহ কমপক্ষে ২০ জন নারী ও পুরুষ ভূমিহীন জখম হন। আহত ছয়জন ভূমিহীনকে হামলাকারিরা তাদের মজুত করা অস্ত্র দিয়ে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়। কামরুল হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে ২৩ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন গত বছরের ১০ নভেম্বর।

(আরকে/এসপি/আগস্ট ৩১, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

৩১ আগস্ট ২০২৫

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test