E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গণস্বাক্ষরে এলাকাবাসী

নানা অভিযোগে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সাহিদকে আর দেখতে চায় না শিক্ষক ও অভিভাবক 

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৯:১০:০৬
নানা অভিযোগে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সাহিদকে আর দেখতে চায় না শিক্ষক ও অভিভাবক 

নগরকান্দা প্রতিনিধি : নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে বোর্ড কর্তৃক চুরন্ত ভাবে বহিষ্কৃত হলেও নানান শুকৌশলে টিকে যাচ্ছে সালথা উপজেলার বাউষখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহিদুজ্জামান সাহিদ। তার হাতে ইএফটি পাসওয়ার্ড থাকায়  নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন ও শিক্ষকদের বেতন ভাতা উত্তোলনে পড়েছে বিপাকে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক-অভিভাবক- ম্যানেজিং কমিটি। গত ২০১৯ সালে অর্থ আত্মসাৎ, বৃত্তির টাকা দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বিদ্যালয়ের টিউশন ফি আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতি, উৎসব ভাতা আত্মসাৎ, নারি কেলেঙ্কারী সহ নানা অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অনিয়মের দায়ে (প্রধান শিক্ষক) বরখাস্ত হন যা পরবর্তীতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদপুরকে দেয়া হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুসারে বোর্ড থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেন।

বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়া স্বত্বেও কৌশলে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ২১ আগষ্ট ২০২৪ সালে বেতন ভাতা সংক্রান্ত একটি চিঠি আনেন। তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য উক্ত চিঠি চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বেতন ভাতা স্থগিতাদেশ জারি করেন।বর্তমানে মামলাটি চলমান।

পরবর্তীতে ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে স্বপদে পূর্ণবহালে চিঠি দেন। এমত অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি বাদী হয়ে উক্ত আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।হাইকোর্ট বিভাগ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। যার ব্যাখ্যা অদ্যবধি দেয়া হয়নি। আদালত রুল জারি করলেও ব্যাখ্যা না দেয়ায় মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

পরবর্তীতে মাউশি অধিদপ্তর দুই পক্ষকে শুনানির জন্য শিক্ষা ভবনে ডেকে নেন। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শুনানি শেষ হলেও পরে সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক -২) স্বাক্ষরিত চিঠিতে বরখাস্ত প্রাপ্ত প্রদান শিক্ষককে যোগদানের সহায়তা করতে চিঠি প্রদান করেন।

মামলা চলমান থাকায় বরখাস্ত কৃর্ত প্রধান শিক্ষকের যোগদান কার্যক্রমে কোন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকেন যাহা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সালথা এর প্রতিবেদনে উল্লেখ্য।

তিনি বিভিন্ন সময় কমিটির সভাপতি, প্রতিনিধি, শিক্ষক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, মাউশি কর্মকর্তা সহ অসংখ্য মানুষের স্বাক্ষর নকল করে অসদুপায়ে তাঁর নিজ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে চিঠিপত্র প্রদান করছেন। সাবেক সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজদা চৌধুরীর স্বাক্ষর নকল করে জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগে লিপিবদ্ধ।

মি. সাহিদ বিদ্যালয়ে প্রায় ৬ বছর না এসে বেতন ভাতা ভোগ করা সহ বিদ্যালয়ের এডমিন ও এমপিও এর ইএফটি পাসওয়ার্ড হস্তগত করেছেন। যা ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন রকম প্রতারণা করে চলছেন।বিদ্যালয়ের এডমিন ও এমপিও এর ইএফটি পাসওয়ার্ড সমূহ বিদ্যালয়ের অনুকূলে হস্তগত না হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট হতে পারে।

বোর্ড কর্তৃক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি বিদ্যালয় অনুপস্থিত। বিদ্যালযের সম্মান বজায় রাখতে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আর দেখতে চায়না অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটি ও গণস্বাক্ষরকৃত ৪১০ জন এলাকাবাসী।

সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ এমদাদ ফকির। গত ০৩ অক্টোবর ২০২২ সালে সালথা থানায় একটি জিডি করেন তাহার নং - ১২৯ ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহিদুজ্জামান সাহিদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা গত ২০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে ম্যানেজিং কমিটির বরখাস্তই চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অর্ধেন্দু কুমার সরকার বলেন,প্রধান শিক্ষক মি. সাহিদ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ, জাল জালিয়াতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে কমিটি কর্তৃক বরখাস্ত হন। প্রায় ছয় বছর যাবত স্কুলে না এসে বেতন, ভাতা - সুবিধা ভোগ করছে। শিক্ষকদের হুমকি প্রধানসহ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। বিদ্যালয় এর পাসওয়ার্ড তার কব্জায়, তার এহেন কার্যকলাপে তাকে আর বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেখতে চায় না ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসী।

এ বিষয় সাহিদুজ্জামান সাহিদ (প্রধান শিক্ষক) বলেন, আমি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি থাকায় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আমাকে অন্যায় ভাবে বহিষ্কার করা হয়। সরকার পতনের পর আমি শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করলে বোর্ড আমাকে বকেয়া বেতন ভাতা সহ স্বপদে পূর্ণবহাল করে।কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারছি না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার চাকী বলেন, প্রধান শিক্ষক মি. সাহিদ এর অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের তদন্তে আসলে উল্টো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ লিখিত আকারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগের কাগজপত্র আমাকে দেন।বিদ্যালয় আর প্রধান শিক্ষক মি. সাহিদকে চান না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

(পিবি/এসপি/আগস্ট ৩১, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

৩১ আগস্ট ২০২৫

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test