E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর ব্যবসায়ীর গলিত মরদেহ উদ্ধার

২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১৩:২৮:১১
গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ২১ দিন পর ব্যবসায়ীর গলিত মরদেহ উদ্ধার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : নিখোঁজের ২১ দিন পর গোপালগঞ্জের একটি কবরস্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় মোবাইল ব্যবসায়ী মিজান মোল্যার (৪৮) গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মুল আসামি জাহিদ মোল্লাকে  গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাগাইল গ্রামের কবর স্থান থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহ আলম মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মোবাইল ব্যবসায়ী মিজান মোল্যা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর মাস্টারপাড়া গ্রামের হারেজ মোল্লার ছেলে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে মিজান মোল্যার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। ঘোষেরচর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৫৫) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাগাইল গ্রামের সাহেব মোল্লার ছেলে। নিহত মিজান মোল্লার স্ত্রী জামিলা ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ব্যবসার ২০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো: শাহ আলম বলেন , গত ৮ নভেম্বর রাতে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মোল্যাকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার জাহিদ মোল্লা । এরপর থেকে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন । এ ঘটনায় গত ১৭ নভেম্বর ৫ জনকে আসামি করে জামিলা ইসলাম বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের দিন মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয় । তার স্বীকারোক্তি ও টেকনোলজির ব্যবহার করে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাগাইল গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় ব্যবসায়ী মিজান মোল্যার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । পরিবারের সদস্যরা মিজানের মরদেহ সনাক্ত করেছে । এরপর মময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ আড়াইশ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনার পর নিহত মিজান মোল্যার স্ত্রী জামিলা ইসলাম ও স্বজনদের আহাজাড়িতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়েছে ওঠে । তারা এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অপহরণের পর ওই ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে ।প্রচলিত আইনে শান্তি নিশ্চিত করতে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

এসময় নিহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জামিলা ইসলাম বলেন, আমার স্বামী মিজান মোল্যা শহরের কেরামত আলী প্লাজায় জাহিদদুল ইসলাম মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসায় আমার স্বামী ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন । আমার স্বামীকে না জানিয়ে গোপনে জাহিদ মোবইলের দোকান বিক্রি করে দেয়। আমরা স্বামী ব্যবসায়িক লেনদেনের ২০ লাখ টাকা ফেরৎ চাইলে জাহিদ টালবাহানা শুরু করে । ৩ মাস ধরে ঘুরাতে থাকে। খাগাইল গ্রামে তার কিছু জায়গা জমি আছে বলে আমার স্বামীকে জানায় । ওই গ্রামের সোহেল ও টিটোর কাছে জায়গা বিক্রি করে টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় জাহিদ । গত ৮ নভেম্বর রাত ৯ টার দিকে আমার স্বামীকে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় জাহিদ । আমার স্বামী পাওনা টাকা আনতে খাগাইল গ্রামে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে রেব হন। সন্দেহ করছি ওই রাতেই জাহিদ, সোহেল ও টিটো সহ অন্যান্যরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করে । পরে মরদেহ জাহিদের বাড়ির পাশের কবরস্থানে মাটি চাপা দিয়ে রাখে । আমি এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই। জাহিদ সহ এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দিতে হবে ।

(টিবি/এএস/নভেম্বর ৩০, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

৩০ নভেম্বর ২০২৫

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test