E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

লালপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত শান্তিরক্ষী মাসুদ

২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ১৪:৫৫:০২
লালপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত শান্তিরক্ষী মাসুদ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : আফ্রিকার দেশ সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী করপোরাল মাসুদ রানাকে নিজ গ্রাম নাটোরের লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়া গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই বীর সেনানী।

এর আগে মাসুদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শোকের মাতমে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শহীদ মাসুদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় সামরিক মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বোয়ালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লালপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবির হোসেনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেন লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ পাপ্পু, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা তাইফুল ইসলাম টিপুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে মাসুদের মরদেহ করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছানো হয়। এসময় বীর সেনানীকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় থাকেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নেওয়া হয় তার বাড়ি সংলগ্ন বোয়ালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

শহীদ মাসুদ রানা নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের ছেলে। তিনি মা, স্ত্রী ও আমেনা নামে আট বছরের এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। মাসুদসহ তিন ভাইই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য, যার মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা ২০০৬ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে রেখে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে সুদান যান। মিশনে যাওয়ার মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় মাসুদসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আহত হন আরও আটজন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে শহীদ মাসুদ রানাসহ ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

দেশের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন নিয়ে শান্তিরক্ষী হিসেবে বিদেশে গেলেও কফিনে মোড়া দেহে ফিরলেন এই বীর সন্তান। তার শাহাদাতে শোকাহত পুরো জাতি।

(এসকেকে/এএস/ডিসেম্বর ২২, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

১৬ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test