E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বাঙ্গালহালিয়ায় বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা দেড় শতাধিক উপাসক-উপাসিকার মিলনমেলা

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৮:৩৮:০৪
বাঙ্গালহালিয়ায় বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা দেড় শতাধিক উপাসক-উপাসিকার মিলনমেলা

রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুদুমছড়া বৌদ্ধ বিহারে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ৫ দিনব্যাপী বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই কর্মশালা ১০ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সমাপনীর মাধ্যমে শেষ হয়। এতে তিন পার্বত্য জেলা থেকে প্রায় দেড় শতাধিক দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকা অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী দিনে সকালে কুটুরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চার বার মাঠ প্রদক্ষিণ করে পিন্ড শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। রাজস্থলী 'দি বুদ্ধ সাসনা হিতাকারি এসোসিয়েশন'-এর ব্যবস্থাপনায় এবং কুদুমছড়া পাড়া বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জগতের সকল প্রাণীর চিত্তের ক্লেশ মুক্তির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিদর্শন ভাবনা পরিচালনা করেন মিয়ানমার সরকার কর্তৃক "আগগা মহা সদ্ধর্ম জ্যোতিকা ধ্বজা" উপাধি প্রাপ্ত ভদন্ত কিত্তিমা মহাথের।

তিন পার্বত্য জেলা থেকে আসা ধ্যানী উপাসক-উপাসিকারা জানান, মানুষের মনের কালিমা বা পাপ দূর করার জন্য বিদর্শন ভাবনার কোনো বিকল্প নেই। তারা বলেন, "শরীরে ময়লা লাগলে আমরা যেমন দ্রুত পরিষ্কার করি, তেমনি মনের ময়লা পরিষ্কারে বিদর্শন ভাবনা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে মানুষ নিজ ধ্যানের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে।"

বিহারের মনোরম পরিবেশ থাকলেও আবাসন ও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা জানান, বিহারটিতে শৌচাগার, পাটি, বালিশ, কম্বল এবং মাঠ সংস্কারসহ স্থায়ী অবকাঠামোর সংকট রয়েছে। তবে স্থানীয় পাড়াবাসী ও দায়ক-দায়িকাদের আন্তরিক সেবায় তারা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। বিহারের এসব সমস্যা সমাধানে তারা রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।

কুদুমছড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উঃ চাইন্দাসারা ভিক্ষু জানান, পিন্ডচরণের মধ্য দিয়ে সফলভাবে এই কর্মশালা শেষ হয়েছে। কুদুমছড়া পাড়া কারবারি মাসুইচিং মারমা ও বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উসাচিং মারমাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, "আমাদের বিহারে অনেক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদর্শন ভাবনা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং আগত অতিথিদের আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।" তারা বিহারের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

(আরএম/এসপি/জানুয়ারি ১০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১১ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test