E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নেত্রকোনা- ৩ আসনে দ্বিমুখী তুমুল লড়াই  

প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি, নীরবে এগুচ্ছে স্বতন্ত্র

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৯:০৫:৪২
প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি, নীরবে এগুচ্ছে স্বতন্ত্র

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫৯ নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীর সাথে বিএনপির বিএনপির মনোনায়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালের দ্বি-মুখী তুমুল লড়াই হবে। এ লড়াইয়ে কে হারে কে জিতে তা এখনও বলতে না পারলেও জয়ের আশা করছেন দুই প্রার্থীই। তবে নির্বাচনে আদর্শ, যোগ্যতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী রফিক হিলালী ও নীরবে অভিজ্ঞতা নিয়ে এগুচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল।
আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) নির্বাচনী আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ পুরুষ ও ২ লাখ ৫ হাজার ৭৯৪ জন মহিলা ও ৯ জন হিজড়া।

কেন্দুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ এবং মহিলা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪১০ ও হিজড়া ৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৯৬ টি।

অপরদিকে আটপাড়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৬৬ হাজার ৩৮৪ এবং পুরুষ ৬৮ হাজার ৩৮৪ এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩ টি।

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে দেখা দিচ্ছে উত্তেজনা। কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হক ভূঞা কচিকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে উপজেলা সদরে তাকে ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ঘোড়া ঘোড়া শ্লোগান দেয়। তাৎক্ষনিত এই মিছিলের পর বিএনপির প্রার্থী সমর্থকরা আরও একটি বিশাল মিছিল করে ধানের শীষ ধানের শীষ শ্লোগান দেয়। এতে উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তিনি নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পথসভায় দাবি করে বলেন, তার দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনের হামলা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরপরও তিনি কখনও দল ছাড়েননি। বিএনপিই তার জীবনের আদর্শ দাবি করে তিনি বলেন, আটপাড়া-কেন্দুয়া নির্বাচনী এলাকার ভোটারগণ আদর্শ, যোগ্যতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে উজ্জীবিত। দুই উপজেলার ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকেই জয়যুক্ত করবেন।

রফিক হিলালী বলেন, আমার জীবনে কখনও নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণের সাথে ধোকাবাজির রাজনীতি করিনি। এবার বলেছিলাম ধানের শীষ যার হাতে আমি থাকবো তার সাথে। আমি আমার কথা ঠিক রেখেছি। বিচারের ভার জনগণের উপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সম্মান রক্ষার্থে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণের পক্ষে মহান সংসদে কথা বলার সুযোগ করে দেবেন ইনশাল্লাহ।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলাল বিভিন্ন পথসভায় বলেন, আশা ছিল বিএনপি থেকে মনোনায়ন আমাকেই দেবে কিন্তু মনোনায়ন দেওয়া হয়নি। তবে দুই উপজেলার নির্যাতিত ও বঞ্চিত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া। বিএনপির বিপক্ষে নির্বাচন করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে মো: দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে গণমানুষের রাজনীতি করি।

কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরবর্তীতে কেন্দুয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সুখে দুঃখে পাশে থেকেছি। দীর্ঘ দিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কোন দিন জনগণের সাথে বেইমানি করিনি। অনিয়ম দূনীতির সাথেও জড়িত হয়নি। এসবের মূলায়ন করে জনগণ ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে আমাকেই জয়যুক্ত করবেন।

দুই শক্তিশালী প্রার্থী ভোটের মাঠে রাতদিন গণসংযোগ করছেন। এতে ভোটাররা অনেক দ্বিদাদ্বন্ধে পড়েছেন। তারা করছেন নানান হিসেব নিকেষ। অনেকেই বলছেন উন্নয়নের প্রশ্নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।

এ প্রশ্নে আদমপুর গ্রামের ভোটার মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, আশাকরছি দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাই আমরা দলের মনোনিত প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে তিনি উন্নয়ন করতে পারবেন।

অপরদিকে দিগদাইর গ্রামের ভোটার আব্দুল হেকিম ভূঞা বলেন, মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। কেননা তিনি এর আগে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন অনেক বেশি। সুতরাং জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে আমরা তাকেই ভোট দেব।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের সবকটিতেই ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রতিটি পথসভায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। আমরা আশা করছি কোন কারচুপি না হলে সুষ্ঠ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হবেন ইনশাল্লাহ।

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ভূঞা মজনু ও সাংগঠিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা জসিম আহম্মেদ খোকন বলেন, নির্বাচন নিয়ে জনমনে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ১৭ বছর পর জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পরিচিত প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আশাকরি সুষ্ঠ নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীই বিজয়ী হবেন।

(এসবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test