E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পাংশা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৯:২৯:১৬
পাংশা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভায় পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দুঃস্থদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক থেকে দেড় কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উপকারভোগী।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারান্দায় চাল ঢেলে বালতিতে ভরে উপকারভোগীদের চাউল দেওয়া হচ্ছে। চাল মাপের জন্য নেই কোন পরিমাপ যন্ত্র। সাংবাদিকেদের উপস্থিতির পর একটি পরিমাপযন্ত্র এনে বালতি ভরে পরিমাপ করে দেখা যায় ৯ কেজি ২৯৩ গ্রাম চাল। এসময় চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়ীত্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল শরীফকে দেখা যায়নি। তবে পাশেই মাস্ক পড়ে বসে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে উপজেলা মৎস্য অফিসের হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট মো. মনিরুজ্জামানকে।

পৌরসভার সত্যজিৎপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা তাউজেল নামে এক উপকার ভোগী বলেন, চাল নিয়ে মনে হলো ওজনে কম! পরে পৌরসভার সামনে থেকে মেপে দেখি ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম!

আয়সা নামের এক উপকারভোগী চাল পেয়ে পৌরসভার সামনের একটি দোকান থেকে মাপ দিয়ে দেখেন ৮ কেজি ৮শত গ্রাম চাল পেয়েছেন। অপর এক উপকারভোগী চাল মেপে দেকেন ৮ কেজি ২০০ গ্রাম!

জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুস্তদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি। বরাদ্দকৃত চাল খাদ্যগুদাম থেতে উত্তোলন করেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন বলেন, গত বৃস্পতিবার ৩০কেজি ওজনের ১৫৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গোডাউনে রেখেছি। শনিবারে বিতরণ হয়েছে এবং আজও বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে উপকারভোগী ও স্বচেতন মহলের প্রশ্ন: জনপ্রতি এক-দেড় কেজি চাল কম দিলে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার কেজি চাল কোথায়? পৌরসভার গোডাউন থেকে কি চাল উধাঁও হয়ে গেছে? নাকি পৌরসভার সচিব এসব চাল আত্মসাৎ করেছে?

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিছুর রহমান বলেন, একটি বস্তার ওজন ৩০০ গ্রাম। বস্তায় চালও কম থাকে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। আমরা সেভাবেই চাল বিতরণ করছি।তাহলে কিভাবে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি করে কার্ড প্রতি চাল দেওয়া হচ্ছে? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এমন হওয়ার সুযোগ নাই। তবে কেউ যদি পৌর সভার বাইরে গিয়ে আবার এসে বলে চাল কম, সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নাই। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাইরে থেকে এসে যদি বলেন টাকা কম, তাহলে কি ব্যাংক দায় নেবে? সেইরকম আমরাও এই চাল কম দেওয়া হচ্ছে এই দায় নিবো না।

(একে/এসপি/মার্চ ১৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৫ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test