E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজান সিনহা’র লাশ দেশে, দাফন সোমবার 

২০২৬ মে ১৭ ১৮:১৮:১২
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজান সিনহা’র লাশ দেশে, দাফন সোমবার 

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান সিনহার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে রোববার ভোর রাতে দেশে এসে পৌছেছে। আজ রবিবার সকালে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা সংসদ ভবনের দক্ষিন প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা বাদ জহুর তাঁর ধামরাইলের ফ্যাক্টরী প্রঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাদ আছর তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার শ্যামলী ক্লাব মাঠ প্রাঙ্গনে। ১৮ মে সোমবার বেলা ১০টার তাঁর ৪র্থ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পল্টনে। এবং সর্বশেষ ও ৫ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে তাঁর জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কালমা স্কুল মাঠে। পরে তাঁর নিজ বাড়ি কলমায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদার।

এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মননোয়ন লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্থলে বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে দলীয় মননোন দেয়া হয়।

মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত।

তাঁর পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ঔষধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। সিনহা শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

১৯৬৪ সালে সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকুরীর মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মিজান সিনহা ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম নূজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।

তাঁর মৃত্যুতে এলাকার জনগণ ও বিএনপি’র রাজনীতি ঘরোয়ানার নেতা-কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনর সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন,মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাফিজুর রহমান খান ও লৌহজং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদারসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

(এমকে/এসপি/মে ১৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৭ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test