E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা, প্রেমিকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

২০২৬ মে ১৭ ১৮:৩১:১৪
ফরিদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার পর মাটিচাপা, প্রেমিকের রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই মাস পর উদ্ধার হওয়া মা ও মেয়ের গলিত লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে তাদের নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ দুটি নির্জন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

এই জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত মূল ঘাতক প্রেমিক মোঃ উজ্জ্বল খানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বকারটিলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বল রাজবাড়ীর বাসিন্দা।

আজ রবিবার দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ মে কোতোয়ালি থানাধীন চর মাধবদী ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় জাহানারা বেগম (৩০) ও তার পাঁচ বছরের শিশুকন্যা সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহানারা রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ৪ মার্চ থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের স্বজন মোঃ লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মোঃ আবুল বাশার মোল্লাকে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক উজ্জ্বল জানায়, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন এই সম্পর্ক চলার পর জাহানারা বিয়ের জন্য চাপ দিলে উজ্জ্বল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই সূত্র ধরে গত ৪ মার্চ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারা ও তার শিশুকন্যাকে ফরিদপুরে ডেকে আনে সে।

যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড

জিজ্ঞাসাবাদে উজ্জ্বল স্বীকার করেছে, গত ৪ মার্চ রাতে কোতোয়ালি থানার কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে জাহানারাকে নিয়ে ওঠে সে। সেখানে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় পাশে থাকা শিশু সামিয়া চিৎকার করতে গেলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর উজ্জ্বল নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ওই ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দুটি গর্ত খুঁড়ে মা-মেয়ের লাশ মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

আলামত উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া

তদন্তকারী দল জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশু সামিয়ার পোশাক, একটি মালা, আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পুলিশের ডিআই-ওয়ান ইন্সপেক্টর মোঃ মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীবৃন্দ।

(ডিসি/এসপি/মে ১৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৭ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test