E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সোনাতলায় সড়কের গাছ কাটার ‘মহোৎসব’, পরিবেশ ও সৌন্দর্য হুমকিতে

২০২৬ আগস্ট ২২ ১৮:৪৯:১৬
সোনাতলায় সড়কের গাছ কাটার ‘মহোৎসব’, পরিবেশ ও সৌন্দর্য হুমকিতে

বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার কামারপাড়া থেকে রশিদপুরগামী সড়কের দুই পাশে থাকা গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের গাছগুলো একের পর এক কেটে ফেলা হলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। যে যার মতো করে সড়কের পাশের গাছ কাটছেন। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গাছের ছায়া হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও কৃষকেরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছর খানেক আগেও কামারপাড়া-রশিদপুর সড়কের দুই পাশে বড় বড় অসংখ্য গাছ ছিল। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে মাঠে কাজ করা কৃষকেরা কাজের ফাঁকে এসব গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিতেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় গাছ কেটে ফেলায় সড়কের অনেক অংশ এখন গাছশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে তীব্র রোদে কৃষক ও পথচারীদের বিশ্রামের সেই সুযোগও কমে গেছে। শুক্রবার (২১শে আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে রশিদপুর পৌঁছার আগের মোড় সংলগ্ন কামারপাড়া সড়কের পাশে তিনটি গাছ কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বাড়িতে গেলে জানা যায়, ওই ব্যক্তি কামারপাড়া-রশিদপুর মোড় এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন।

এ বিষয়ে জাকির হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে লাকড়ি(খরি) হিসেবে ব্যবহারের জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে জাকির হোসেনের মা ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “তোর সাহস থাকলে আগামীকাল আসিস। তুই কেমন সাংবাদিক—আমার ছেলে জাকির, মেহেদী ও মানিক থাকবে,তুই আসিস। আর পারলে তোকে সংবাদ দিয়েছে তাকেও নিয়ে আসিস।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, “কোনো টিএনও না কাকে আনবি নিয়ে আসিস। আমরা রাস্তার গাছ কাটেছি, আরও কাটব।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, গত এক বছরে ওই পরিবারের লোকজন সড়কের পাশ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪টি গাছ কেটেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশের গাছগুলো সরকারি বা জনসাধারণের সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত থাকলে সেগুলো ব্যক্তি উদ্যোগে কেটে ফেলার সুযোগ থাকার কথা নয়। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকৃতি প্রামাণিকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর বিপরীতে সড়কের পাশের পরিণত গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়।

তাদের দাবি, সড়কের পাশের গাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

(বিএস/এসপি/আগস্ট ২২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২২ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test