E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সমাজসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি

ফরিদপুরে অধ্যাপক এম এ সামাদকে সংবর্ধনা, স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:২৭:৩৯
ফরিদপুরে অধ্যাপক এম এ সামাদকে সংবর্ধনা, স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

দিলীপ চন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি : সমাজসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ফরিদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তাঁর কর্মময় জীবন ও সমাজসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রকাশিত ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদ স্মারক গ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আজ শনিবার বিকেলে ফরিদপুর শিশু একাডেমি সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর গুণীজন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সভাপতি আমের ইউসুফ এবং ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক শেখ সামাদ।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আজিজুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন ফরিদপুর গুণীজন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এ বি এম সাত্তার এবং লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর গুণীজন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “আমরা ফরিদপুরবাসী অনেক ভাগ্যবান যে সামাদ স্যারের মতো একজন মানুষের জন্ম হয়েছে। তিনি শত শত এতিমের পিতা, তিনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। স্যার যেসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেসব প্রতিষ্ঠানের যে কোনো প্রয়োজনে আমি ও আমার পরিবার পাশে থাকব।”

সম্মানিত অতিথি চৌধুরী মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, “যেখানে গুণীজনদের মূল্যায়ন হয় না, সেখানে গুণীজন জন্মায় না। আমরা অনেক সময় গুণীজনদের যথাযথ সম্মান দিতে পারি না। এই হিংসার শহরে সামাদ স্যার একজন আলোকবর্তিকা।”

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, “অধ্যাপক সামাদ একজন সাদা মনের মানুষ এবং অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তি। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি জীবনে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছেন। ফরিদপুর শহরে কেউ মারা গেলে সবার আগে তাঁর বাসায় ছুটে যান অধ্যাপক এম এ সামাদ।”

বক্তারা বলেন, অধ্যাপক এম এ সামাদ শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি একজন সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক, শিক্ষানুরাগী ও সাহিত্যপ্রেমী। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ফরিদপুরের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

তাঁরা আরও বলেন, অধ্যাপক সামাদ ফরিদপুরের শত শত এতিম ও অসহায় মানুষের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের জন্য কাজ করাকে তিনি জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

বক্তারা জানান, প্রায় পাঁচ দশক ধরে ফরিদপুরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অধ্যাপক এম এ সামাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে নিজের ভালো কাজের প্রচার কখনো তিনি নিজে করেননি। নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদের দীর্ঘ কর্মময় জীবন, সমাজসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান তুলে ধরে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

(ডিসি/এসপি/আগস্ট ৩০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

৩০ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test