E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বড়াইগ্রামে পাশের বাড়ির টয়লেট থেকে যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার

২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১৮:০৪:০৫
বড়াইগ্রামে পাশের বাড়ির টয়লেট থেকে যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার

একরামুজ্জামান বিদ্যুৎ, বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রামে নিখোঁজের ৫ দিন পর পাশের বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম খাঁ ওরফে শফিক (৩৬) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শফিক ওই এলাকার মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা ও স্বজনেরা জানায়, মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পাশের বাড়ি ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণধীন বাড়ির নির্মাণধীন টয়লেটের ভিতর ফেলে রাখে।

নিহত শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে হেরোইন কেনা-বেচা নিয়ে দ্বন্দে শফিককে খুঁজতে শফিকের বাড়ি আসে একই এলাকার পিচ্চি শাজাহানের ছেলে মাদকব্যবসায়ী সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা ও এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী মাজেদা বেগম মাজু, সোহেলের বোন সুমী খাতুন ও সোহেলের ছেলে সোহাগ। এসময় শফিককে না পেয়ে তারা শফিকের মা জাহেরা বেগমকে মারধর করে। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নিহত শফিকের চাচী মেহেরুন্নেছা জানান, তার ভাতিজা শফিকের মোবাইল ফোনটি অপর মাদক ব্যবসায়ী রাকিবের কাছে পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, শফিকের মুখমন্ডল ও বুকের অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো ঝলসানো ছিলো। টয়লেটের মধ্যে খালি গায়ে উপুর হয়ে লাশটি পড়ে ছিলো, পড়নে ছিলো ফুল প্যান্ট। পায়ের জুতো খোলা অবস্থায় ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোন পদার্থ খাইয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। তিনি এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ত দাবি করে এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন।

নিহত শফিকের মা জাহেরা বেগম জানান, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে সোহেলেরা, তার মা ও খালারা। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।”

শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, শীঘ্রই বাদী হয়ে এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ এবং অতঃপর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

(এবি/এসপি/অক্টোবর ০৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৬ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test