E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘‌শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না’

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৩:৪১:৪৭
‘‌শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না’

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াত আমিরের উসকানি রয়েছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে ঢুকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা চালিয়েছে। আর জামায়াত রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা এবং তাকে অসম্মান করার প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রাশেদ খাঁন বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন।
ডিসেম্বর থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, গতকাল মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সাধারণ শ্রমিকদের সংগঠিত করে মাঠে নামিয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শ্রমিকের ছদ্মবেশে পুলিশের গাড়ি, পিকআপ ও গার্মেন্টস কারখানায় আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, জামায়াতের লংমার্চ থেকে সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এরপর শ্রমিক আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তার দায় জামায়াত এড়াতে পারে না।

রাশেদ খাঁন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত আমিরের দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার (আমিরের) ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। উসকানিদাতা হিসেবে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত শিবিরের ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে রয়েছে। আর এটিই জাতির জন্য লজ্জার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা মানে পুরো মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা।

রাশেদ খাঁন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দায়িত্ব শুধু একাত্তরে দেশ স্বাধীন করার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়নি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তাদের পাশাপাশি দেশের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার থাকতে হবে।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে কেউ যেন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০২, ২০২৬)








পাঠকের মতামত:

০২ নভেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test