E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

২০২৬ জুলাই ০৪ ১২:৩৮:৪৩
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, ম্যাচের শুরুতে হয়তো খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে লিওনেল মেসিদের ১২০ মিনিটের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে। যদিও কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণ শুরুতে মেসিদের আক্রমণ আটকে দেয়। ১৫ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার পাস থেকে মেসির প্রথম বড় সুযোগটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ১৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকেও গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অবশেষে ২৯ মিনিটে জাদুকরী মুহূর্ত এনে দেন মেসি। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অসাধারণ লং বল নিখুঁত প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণে এনে কেপ ভার্দের রক্ষণ ভেঙে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে মেসির সপ্তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে তার সরাসরি গোল অবদান দাঁড়ায় ১২টি (৬ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট), যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ। টানা ৮ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করলেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল হরো ২০টি।

গোলের পরও আর্জেন্টিনা আধিপত্য বজায় রাখে। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকান ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। কেপ ভার্দে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ৫৪ মিনিটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। কিন্তু ৫৯ মিনিটে আর পারেননি। ডান প্রান্তে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে ডেরয় দুয়ার্তে কঠিন কোণ থেকেও জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।

সমতায় ফেরার পর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালায়। ৬২ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজের পাস থেকে মেসির কাছ থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান ভোজিনহা। ৭২ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। শেষ দিকে মেসির আরও দুটি প্রচেষ্টা, পারেদেসের দূরপাল্লার শট এবং ম্যাক অ্যালিস্টারের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৯২ মিনিটে কর্নার থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফ্লিকের পর লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জালের ছাদে বল পাঠিয়ে স্কোর ২-১ করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় দ্রুততম গোল এটি।

তবে কেপ ভার্দে আবারও অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেজ ক্যাবরাল বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দূরের কোনায় দুর্দান্ত বাঁকানো শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে কোনো সুযোগ না দিয়ে ম্যাচ ২-২ করেন। গোলটি সহজেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলের দাবিদার।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছে, তখন ১১১ মিনিটে আসে ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্ত। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড ডিনে বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরও একবার সমতায় ফেরার খুব কাছে চলে গিয়েছিল। ১১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে সিডনি ক্যাবরালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক উড়ে যাচ্ছিল জালের কোণে, কিন্তু এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণভাবে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে বল ফিরিয়ে দেন। সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষ বড় সুযোগ।

ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা ছিলেন অসাধারণ। তিনি মোট আটটি সেভ করে আর্জেন্টিনাকে বারবার হতাশ করেন। অন্যদিকে মেসি একাই পাঁচটি শট অন টার্গেটে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তার দলকে জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয় প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলের।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও এই ম্যাচে কেপ ভার্দে দেখিয়ে দিল, বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা কেবল চমক নয়, বড় দলগুলোর জন্যও ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।

(ওএস/এএস/জুলাই ০৪, ২০২৬)







পাঠকের মতামত:

০৪ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test