E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বিশ্বকাপ শেষ হতেই কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

২০২৬ জুলাই ২১ ১৪:৩২:২০
বিশ্বকাপ শেষ হতেই কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যতম সহ-আয়োজক ছিল কানাডা। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই সেই প্রতিবেশীর ওপর বড় ধরনের বাণিজ্য শুল্ক বসালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গাড়িশিল্প, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এবং দুগ্ধজাত পণ্যে কানাডার অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই পুরোনো মিত্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতীতে নেওয়া মার্কিন শুল্ক নীতির জবাবে যেসব দেশ পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল, কানাডা ছিল তাদের অন্যতম। সেই পাল্টাধাওয়া আর বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের জেরেই ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ১৯৩০ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের বিশেষ ধারায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় এতদিন শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া প্রায় সব কানাডীয় পণ্যের ওপরই এখন ৫০ শতাংশ হারে কর গুণতে হবে। তবে জ্বালানি পণ্য, পটাশ, মাছ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

২০২০ সালে কার্যকর হওয়া ইউএসএমসিএ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র নবায়ন না করায় নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি হয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই শুল্ক আদেশ পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। এতে আলোচনার জন্য দুপক্ষ কিছুটা সময় পাচ্ছে।

মার্কিন এই আগ্রাসী সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের প্রতি কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে জানান, কানাডা এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২০টিরও বেশি নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে দুই দেশের সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করাই সবার জন্য কল্যাণকর হবে।

তথ্যসূত্র : এপি, ইউএনবি

(ওএস/এএস/জুলাই ২১, ২০২৬)











পাঠকের মতামত:

২১ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test