E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Technomedia Limited
Mobile Version

আগৈলঝাড়ায় ফুটপাতের গরম কাপরের দোকানে ভীড়

২০১৯ ডিসেম্বর ২৮ ১৫:৪১:১৯
আগৈলঝাড়ায় ফুটপাতের গরম কাপরের দোকানে ভীড়

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল : আগৈলঝাড়ায় গত এক সপ্তাহ যাবত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে হিমেল বাতাসের কারণে জেঁকে বসেছে শীত। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও শীতের কারণে ছিন্নমুল পরিবারের লোকজন ও খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ নি¤œবিত্ত পরিবারের লোকজনের জীবন জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। শীত নিবারণে গরম পোশাকের অভাবে অনেকেই কোন কাজ করতে পারছেন না। 

বৃহস্পতি ও শুক্রবার সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। জেঁকে বসা শীতের কারণে সন্ধ্যা নামলেই হাট-বাজার ও রাস্তা-ঘাট ফাকা হয়ে পরছে। বিশেষ কাজ না থাকলে লোকজন ঘর থেকে কের হচ্ছে না। শীত মোকাবিলায় লেপ-তোষক বানানো ও শীতবস্ত্র কেনাকাটায় মনোযোগী হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারসহ খেটে খাওয়া শ্রমজীবিসহ ছিন্নমুল পরিবারের সদস্যরা।

শহরের প্রধান সড়ক সদর রোডের মোড়ে ফুটপাতের দোকান, সদর বাজার ও বিভিন্ন হাট বাজারে শীতবস্ত্র বেচাকেনার বাজার জমে উঠেছে। বড় বড় দোকানের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পুরানো কাপড় পাওয়ায় দোকানগুলোতে লেগেছে বেচা কেনার ধুম। সুযোগে বিক্রেতারাও স্বাভাবিক শীতের চেয়ে একটু বেশী দামই নিচ্ছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।

সরকারীভাবে দুই দফায় উপজেলায় বরাদ্দকৃত ২৮০০ কম্বল ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানগন।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিাবাত বুধবার রাতে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে ঘুরে ছিন্নমুল লোকজনের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, এই শীতে যে পরিমান শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেলেও আরও বরাদ্দ দরকার। এলাকায় অনেক শিল্পপতি ও ধর্নাঢ্য লোকজন থাকলেও অসহায় গরীব লোকজনের পাশে এখন পর্যন্ত তারা কেউই দাড়ায়নি। তিনি সরকারের পাশাপাশি সামর্থ অনুযায়ি সকলকে অসহায় শীতার্ত লোকজনের পাশে দাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

কনকনে শীতের কারণে লেপ-তোষক বিক্রিও বেড়েছে অনেক। উপজেলা সদর. গৈলা বাজার, ছয়গ্রাম, সাহেবেরহাট, রাজিহার বাজার, বাশাইল বাজার, পয়সারহাট বন্দর, তালের বাজার, মিশ্রিপাড়া, বাকালহাট, বাটরা বাজার, বারপাইকা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, লেপ-তোষক তৈরিকারকদের ব্যস্ততা আগের তুলনায় অনেক বেশী।

লোপ-তোষক দোকানীরা জানান, বর্তমানে একটি লেপ বানাতে খরচ নেয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত। গৈলা বাজারের লেপ-তোষক ব্যবসায়ী ফরিদ খলিফা জানান, গত বছর ৯০০ টাকায় যে লেপ বানানো হয়েছে এবার সেটা ১১০০ টাকা খরচ পড়ছে।

একই কথা জানান, সাহেবেরহাট বাজারের লেপ-তোষক তৈরি কারক বাবুল বেপারী। গতবারের চেয়ে এবার তুলার দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই লেপ-তোষক তৈরিতে খরচ বেড়েছে বলেও জানান ব্যবসায়িরা।

(টিবি/এসপি/ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

০৫ মে ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test