E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নেত্রকোনা-৩ আসনে ৬ প্রার্থী 

হেভীওয়েট বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াই

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৮:১৮:০১
হেভীওয়েট বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াই

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৫৯ নেত্রকোনা-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো: আবুল হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো: খাইরুল কবীর নিয়োগী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো: জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মো: শামছুদ্দোহা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী রয়েছেন। সব প্রার্থীরাই নির্বাচনে জয়ের আশায় এলাকায় গণসংযোগ, মাইকে প্রচার প্রচারণা, ব্যানার ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ড ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে নিজেদেরকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।

৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশ কেন্দুয়া উপজেলা শাখার আয়োজনে জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করে। ওই জনসভায় উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তবে সব প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় মাঠে থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেত্রকোনা জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীর ধানের শীষ ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালের ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে দ্বিমুখী তুমুল লড়াই চলছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি। সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলে এই দুই প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। কিন্তু পিছু ছাড়ছেন না জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো: খাইরুল কবীর নিয়োগী। তিনি বলছেন প্রভাব মুক্ত নির্বাচন হলে তিনিই বিজয়ী হবেন।

আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) নির্বাচনী আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ পুরুষ ও ২ লাখ ৫ হাজার ৭৯৪ জন মহিলা ও ৯ জন হিজড়া।

কেন্দুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ এবং মহিলা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪১০ ও হিজড়া ৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৯৬ টি।

অপরদিকে আটপাড়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৬৬ হাজার ৩৮৪ এবং পুরুষ ৬৮ হাজার ৩৮৪ এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩ টি।

সহকারী রির্টানিং অফিসার ও ইউএনও মো: রিফাতুল ইসলাম জানান, কেন্দুয়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৯৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোববার তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকলপ্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও অতিরিক্ত সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়ন থাকবে। কোন অবস্থাতেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেওয়া হবে না।

কেন্দুয়া পৌর এলাকার ভোটার মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের সুযোগ পাবো এমনটাই আশা করছি। তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবো। পৌর এলাকার ভোটার আব্দুল হেকিম ভূঞা বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞতার প্রশ্নে আমরা ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিয়ে মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞাকেই বিজয়ী করবো।

অপরদিকে চিরাং ইউনিয়নের ভোটার লিয়াকত আলী খান কাদেরী বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে মো: খাইরুল কবীর নিয়োগীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। ভোটের মাঠে সব প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসলেও হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী ও মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলাল সহ তার কর্মী সমর্থকদের চোখে ঘুম নেই। জয়ের আশায় তারা দিনরাত একাকার করে বিভিন্ন পথসভা ও গণসংযোগ মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছেন। এতে নির্বাচনী এলাকায় দিন দিনেই উত্তেজনা বাড়ছে।

বিএনপির প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী দাবি করে বলেন, তাঁর দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের সাথে ধোঁকাবাজি করেননি। বিএনপিই তার জীবনের আদর্শ ও ঠিকানা দাবি করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আটপাড়া কেন্দুয়ার উন্নয়নে ধানেরশীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকেই জয়যুক্ত করে মহান সংসদে পাঠাবেন।

অপর দিকে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলাল বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দুয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সুখে দুঃখে পাশে থেকেছি। কোন দূনীতি আমাকে ঘ্রাস করতে পারেনি। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকেই জয়যুক্ত করবেন বলে তিনি দাবি করেন।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রত্যেকটিতেই ধানের শীষের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। প্রতিটি পথসভাতেই নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আশা করছি সুষ্ঠ নির্বাচনে ভোটারগণ ধানেরশীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মজিবুর রহমান ভূঞা মজনু বলেন, আদর্শ, যোগ্যতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দুয়া উপজেলার ভোটারগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীকেই জয়যুক্ত করে মহান সংসদে পাঠাবেন।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিতে গিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: নাজমুল হক ভূঞা কচি। তিনি বলেন, সন্ত্রাস মোকাবেলা করে শান্তির জনপদ গড়তেই মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালকে ঘোড়া প্রতীকে জয়যুক্ত করবেন।

(এসবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test