E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কুড়িগ্রামে শিক্ষিকার অডিও ফাঁস

‘যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে’

২০২৬ মে ২০ ১৯:১৪:২৪
‘যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে’

পিএম সৈকত, কু‌ড়িগ্রাম : "যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, আর যে টাকা আনবে না সে নম্বর পাবে না। এখানে টাকার বিষয়ে যেসব কথা হলো, সেটা যদি কোনো অভিভাবক বা অন্য কেউ জানে—তাহলে তোমাদের খবর আছে।" এসএসসি ভোকেশনালের ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষিকা পরীক্ষা রুমে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোর্শেদা বেগমের এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় চলছে আলোচনা –সমালোচনার ঝড়। ঘটনাটি ঘটেছে থানাহাট এইউ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র।

ওই অডিওতে শোনা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগম শিক্ষার্থীদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, আর যে টাকা আনবে না সে নম্বর পাবে না। এখন তোমরা গুল্লি কর, হাইকোর্ট করো, ঢাকা যাও। এখানে ৫শ টাকার কথা হলো সেটা বাইরে যদি যায়, যদি কোনো অভিভাবক কোন স্যার অভিযোগ দেয় তাহলে অবস্থা খারাপ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রথমদিন টাকা দিতে হবে বললেও দ্বিতীয়দিন ওই আপা সবাইকে বলেন ৫শ টাকা করে দিতে হবে যদি না দাও তাহলে তোমরা নম্বর পাবে না। এ কথা বাইরে যায় তাহলে তোমাদের অবস্থা খারাপ আছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ঘুষের পাঠ শেখান এবং ব্ল্যাকমেইল করেন, তবে সন্তানরা কার কাছে নিরাপদ?

অভিভাবক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই কেন্দ্রটিতে পরীক্ষা আসলে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা আদায় করা হয়। আমার ছেলে বাড়ীতে এসে পরীক্ষার জন্য ৫শ টাকা চেয়েছে। টাকা না দিলে নম্বর নাকি দিবে না। তাই দিয়েছি।

বিষয়টি জানতে শিক্ষিকা র্মোশেদা বেগমের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে বলেন, আমি খুব ব্যস্ত আছি! এক সেকেন্ড কথা বলার সুযোগ নেই। বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তৈয়ব আলী বলেন, বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম বলেন, কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(পিএস/এসপি/মে ২০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২০ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test