E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care

For Advertisement

Mobile Version

সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু ধর্ষণ 

মব থেকে বাঁচাতে ধর্ষক ষষ্ঠ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রকে থানায় সোপর্দ 

২০২৬ জুলাই ১৪ ১৯:৪৯:৫৬
মব থেকে বাঁচাতে ধর্ষক ষষ্ঠ শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রকে থানায় সোপর্দ 

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে প্রতিবেশী ষষ্ঠ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রের নাম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে মব এর হাত থেকে ধর্ষককে বাঁচাতে তাকে কালিগঞ্জের নলতায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ডেকে এনে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সদর থানায় সোপর্দ করেছে তার স্বজনরা।

মামলার বিবরণে জানা যায় , গত রোববার বিকেল ৫ টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনের রাস্তায় বন্ধুদের সাথে খেলা করছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী। সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিবেশী ষষ্ঠ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্র ওই ছাত্রীকে খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রফিকুলের বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় রক্তাক্ত জখম হয় ওই ছাত্রী। ধর্ষক ধর্ষিতাকে নিয়ে রফিকুলের টিউবওয়েলে এলে প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন তাদেরকে দেখে ফেলেন। স্কুল ছাত্রী চিৎকার দিলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। রাত ৮ টার দিকে রক্তাক্ত ধর্ষিতাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সুদেষ্ণা সরকার জানান, ওই ভিকটিমের যৌনাঙ্গ ছিড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। আশাশুনী উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর সদস্য শিস মোহাম্মদ জেরী নিজেকে ধর্ষকের আত্মীয় দাবি করে জানান, ধর্ষক ঘটনার পরপরই তার আত্মীয়ের বাড়ি কালিগঞ্জের নলতায় পালিয়ে যায়। তাকে মব থেকে বাঁচাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমানের সাথে পরামর্শ করে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

তবে আদালত চত্বরে ধর্ষক এ প্রতিবেদকের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, বড় ভুল হয়ে গেছে। জনগন বেড়িয়ে মেরে ফেলতে পারে৷ তাই মঙ্গলবার বিকেলে জেরী মেম্বরের সাথে থানায় এসে ধরা দিয়েছি। অথচ পুলিশ বলছে আমাকে না কি ব্যাংদহা বাজার থেকে ধরেছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ জানান, এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে ওই মাদ্রাসা ছাত্রের নাম উল্লেখ করে সোমবার ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামীকে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ব্যাংদহা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিম সুস্থ হওয়ার পর সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারী পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আূসলতে পাঠানো হবে।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মঈনুদ্দিন জানান, আসামী ওই কিশোর মাদ্রাসা ছাত্রকে মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা শিশু আদালতে নিয়ে গেলে বিচারক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ তাকে যশোরের পুলেরহাট শিশু ও কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

(আরকে/এসপি/জুলাই ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৪ জুলাই ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test