E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা সমাধানে পানপাতা

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৪:১৫:১৩
সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা সমাধানে পানপাতা

নিউজ ডেস্ক : আবহাওয়ার এমন ওঠানামা বেশ অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। সর্দি-কাশি, গলায় খুসখুস, পেট ফাঁপা কিংবা গাঁটে ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। এই সময়ে ঘরোয়া প্রতিকারের প্রসঙ্গে উঠে আসে পরিচিত পানপাতার কথা।

অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহৃত এই পাতাটি বহুদিন ধরেই লোকাচার ও প্রচলিত ঘরোয়া পরিচর্যায় নানা কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। গলার অস্বস্তি থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা-বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানপাতা ব্যবহারের কিছু প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। তাই ব্যবহার করার আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন কোন পদ্ধতিতে কী সতর্কতা মানতে হবে।

কাশির অস্বস্তিতে পানপাতা ও গোলমরিচ
গলায় খুসখুস, কাশির অস্বস্তি কিংবা গলা বসে যাওয়ার মতো সমস্যায় পানপাতার সঙ্গে গোলমরিচ, তুলসিপাতা ও মিছরি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ঘরোয়া উপায় একটি পরিষ্কার পানপাতার সঙ্গে কয়েকটি গোলমরিচ, এক-দুটি তুলসীপাতা এবং সামান্য মিছরি চিবিয়ে খাওয়ার কথা বলা হয়। তবে কাশির কারণও একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের অন্য সমস্যার কারণেও কাশি হতে পারে। তাই কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা রক্তসহ কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

পেট ফাঁপা ও হজমের সমস্যায় পানপাতা-জোয়ান
পেট ফাঁপা, ভারী ভাব কিংবা অস্বস্তি হলে অনেকে ঘরোয়া উপায় হিসেবে জোয়ান ব্যবহার করেন। প্রচলিত একটি পদ্ধতিতে দুই-তিনটি পানপাতা পানিতে দিয়ে তার সঙ্গে সামান্য জোয়ান মিশিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। পানি কিছুটা কমে এলে ঠান্ডা করে অল্প পরিমাণে পান করার কথা বলা হয়।

তবে পানপাতা ও জোয়ান ফুটিয়ে তৈরি এই পানীয় হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পর্যাপ্ত নয়। পেটের অস্বস্তি বারবার হলে তার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত শরীরচর্চা হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ঘরোয়া মিশ্রণ দেওয়া উচিত নয়।

গাঁটে ব্যথায় পানপাতার সেঁক
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় কারো কারো গাঁটে ব্যথা বা অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতিতে পানপাতায় সামান্য সরিষার তেল মাখিয়ে হালকা গরম করে ব্যথার জায়গায় সেঁক দেওয়ার কথা বলা হয়। কেউ কেউ এর সঙ্গে হলুদও ব্যবহার করেন। তবে পানপাতা, সরিষার তেল ও হলুদ দিয়ে সেঁক দিলে গাঁটের ব্যথা বা ফোলাভাব কমবেই, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

অতিরিক্ত গরম পাতা ত্বকে লাগালে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করলে তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। গাঁটে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, জায়গাটি ফুলে গেলে কিংবা চলাফেরায় অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পানপাতা ব্যবহারে যে সতর্কতা জরুরি
পানপাতার কিছু উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে গবেষণায় কোনও উপাদানের সম্ভাবনা উঠে আসা আর ঘরোয়া পদ্ধতিতে তা ব্যবহার করে রোগ সারানো এক বিষয় নয়।

বিশেষ করে পানপাতার সঙ্গে সুপারি, চুন ও তামাক মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। তামাক ও সুপারিযুক্ত পান মুখের ক্যানসারসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। সাধারণ পানপাতার ব্যবহার এবং এসব উপাদান মিশিয়ে পান খাওয়াকে এক করে দেখা যাবে না।

ঋতু পরিবর্তনের সময় শরীরের যত্ন নিতে পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কিংবা শিশুর শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, নেটমেড

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৬, ২০২৬)



পাঠকের মতামত:

১৭ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test