E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বইয়ের পাতায় গড়ে উঠুক শিশুর শৈশব

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ০০:৪৯:২৩
বইয়ের পাতায় গড়ে উঠুক শিশুর শৈশব

নিউজ ডেস্ক : শিশুর অবসর কাটানোর অন্যতম সঙ্গী হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। কার্টুন দেখা, গেম খেলা কিংবা ভিডিও দেখার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে অনেক শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না।

অথচ ছোটবেলা থেকে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলে শিশুর মধ্যে পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত কিছু উদ্যোগ।

শিশুর হাতে শুধু বই তুলে দিলেই হবে না, বইয়ের প্রতি তার ভালো লাগাও তৈরি করতে হবে। পড়াকে চাপ বা বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে আনন্দের অংশ করে তুলতে পারলে শিশু ধীরে ধীরে বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে।
শিশুর মধ্যে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে।

একসঙ্গে বই পড়ুন
শিশুকে বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করার সহজ উপায় হলো তার সঙ্গে বসে বই পড়া।
অভিভাবক নিজে বই পড়লে শিশুও উৎসাহ পেতে পারে। ছোটদের জন্য ছড়া, রূপকথা, প্রাণী কিংবা মজার ঘটনা নিয়ে লেখা বই বেছে নেওয়া যেতে পারে।

শিশুকে বই পড়ে শোনানোর সময় ছবিগুলো দেখান, পৃষ্ঠা উল্টাতে দিন এবং গল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করুন। এতে সে শুধু শ্রোতা হয়ে থাকবে না, বরং গল্পের সঙ্গে নিজেকেও যুক্ত করতে শিখবে। একই সঙ্গে অভিভাবক ও শিশুর মধ্যে সময় কাটানোর একটি সুন্দর সুযোগ তৈরি হবে।

গল্প পড়াকে আনন্দময় করে তুলুন
শিশুর কাছে বইকে আকর্ষণীয় করে তুলতে গল্প বলার ধরনে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। গল্পের চরিত্র অনুযায়ী কণ্ঠস্বর বদলে বলা, পুতুল বা পরিচিত খেলনা ব্যবহার করা কিংবা গল্পের দৃশ্য অভিনয় করে দেখানো যেতে পারে।

গল্পের কোনো অংশে শিশুকে প্রশ্ন করতে দিন। তার কল্পনা অনুযায়ী গল্পের পরবর্তী ঘটনা কী হতে পারে, তা জানতে চান। এতে বই পড়া একঘেয়ে কাজ না হয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে।

খেলার ছলে শেখান অক্ষর
শিশুর শেখার প্রক্রিয়ায় খেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্ণমালার ধাঁধা, অক্ষর মেলানোর খেলা কিংবা চুম্বক দিয়ে তৈরি অক্ষর ব্যবহার করে তাকে বর্ণের সঙ্গে পরিচিত করানো যায়।

কোনো অক্ষর দিয়ে কোন শব্দ তৈরি হয়, তা উদাহরণসহ দেখানো যেতে পারে। তবে শিশুর বয়স ও আগ্রহ অনুযায়ী এসব কার্যক্রম সাজানো জরুরি। শেখানোর জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে খেলার মধ্য দিয়েই পড়ার প্রাথমিক দক্ষতা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

গল্প পড়ার পর কথা বলুন
বই পড়া শেষ হলেই কার্যক্রম শেষ হয়ে যায় না। গল্পটি নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বললে তার ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়। গল্পের কোন চরিত্রটি তার ভালো লেগেছে, কেন ভালো লেগেছে কিংবা গল্পের শেষটা তার কাছে কেমন মনে হয়েছে—এমন প্রশ্ন করা যেতে পারে।

শিশুর উত্তর ভুল কি না, তা নিয়ে শুরুতেই সমালোচনা না করে মন দিয়ে তার কথা শুনুন। নিজের মতো করে গল্প ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেলে সে আরও আগ্রহ নিয়ে বই পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন শব্দ শেখা, ভাষায় নিজের ভাব প্রকাশ করা এবং গল্প বোঝার দক্ষতাও চর্চার সুযোগ পায়।

ঘরে তৈরি করুন পড়ার উপযোগী পরিবেশ
বই পড়ার জন্য বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা যেতে পারে। সেখানে পর্যাপ্ত আলো, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং শিশুর বয়স উপযোগী বই রাখুন। আলাদা ঘর না থাকলেও সমস্যা নেই; ঘরের একটি ছোট কোণেই তৈরি করা যায় পড়ার জায়গা।

শিশুর নাগালের মধ্যে বইয়ের তাক রাখলে সে নিজের পছন্দমতো বই বেছে নিতে পারবে। বইগুলো এমনভাবে সাজিয়ে রাখা ভালো, যাতে প্রচ্ছদ ও ছবিগুলো সহজে চোখে পড়ে। এতে বই হাতে নেওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে।

ছবির বই দিয়ে আগ্রহ তৈরি করুন
যেসব শিশু এখনো সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের জন্য ছবিযুক্ত বই বেশ উপযোগী হতে পারে। ছবির মাধ্যমে তারা চরিত্র, ঘটনা ও পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পায়। অভিভাবক শিশুকে ছবি দেখে কী ঘটছে তা বলতে বলতে উৎসাহিত করতে পারেন।

এমনকি একটি ছবি দেখিয়ে শিশুকে নিজের মতো করে গল্প তৈরি করতে বলাও যায়। এতে তার কল্পনাশক্তি ও ভাষা ব্যবহারের চর্চা হয়। ধীরে ধীরে ছবির বইয়ের পাশাপাশি ছোট বাক্য ও সহজ গল্পের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

নিজেরাও বই পড়ুন, শিশুকে সময় দিন
শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে অনেক কিছু শেখে। তাই অভিভাবকেরা নিজেরা বই পড়লে শিশুর মধ্যেও সেই অভ্যাস তৈরির সুযোগ বাড়ে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় পরিবারের সবাই মিলে বই পড়ার জন্য রাখা যেতে পারে।

একইসঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শিশুকে ফোন থেকে দূরে থাকতে বলার পাশাপাশি বড়রাও যদি অপ্রয়োজনে ফোন ব্যবহার কমান, তাহলে সে বাস্তব উদাহরণ পাবে। বই পড়ার সময় ফোন সরিয়ে রাখা এবং শিশুর সঙ্গে গল্পে মনোযোগ দেওয়া এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।

শিশুর বই পড়ার অভ্যাস এক দিনে তৈরি হয় না। কখনো সে আগ্রহ দেখাবে, কখনো অন্য খেলায় ব্যস্ত হতে চাইবে। তাই জোর না করে তার পছন্দ, বয়স ও মনোযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত উৎসাহ দেওয়া জরুরি। ছোটবেলার এই আনন্দময় পাঠচর্চাই ভবিষ্যতে বইয়ের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)




পাঠকের মতামত:

২৮ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test