E Paper Of Daily Bangla 71
World Vision
Walton New
Mobile Version

ফল খাওয়ার নিয়ম-কানুন

২০১৪ মে ১৭ ১৩:৫৫:১১
ফল খাওয়ার নিয়ম-কানুন

নিউজ ডেস্ক : চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস, বাঙালির মধু মাস। ঘরে ঘরে এখন মৌসুমি ফল খাওয়ার ধুম। আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, তরমুজসহ কত রকমের ফলে সয়লাব বাজার। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, সঠিক নিয়মে খাচ্ছেন তো আপনার প্রিয় ফল গুলো? পাচ্ছেন তো জরুরী পুষ্টি?

নাকি শখ করে খাওয়া ফলগুলোই হয়ে উঠছে আপনার স্বাস্থ্যহানির কারণ? তাই জেনে নিন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম :
আম
জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও এই দেশে আম ফলের রাজা। কাঁচা ও পাকা উভয়ভাবেই আম খেতে পারেন। কাঁচা আম দিয়ে চাটনি, মোরব্বা, আচার, শরবত তৈরি করতে পারেন। তাতে পুষ্টিগুণের খুব একটা হেরফের হবে না। আম সহজপাচ্য ফল, বাচ্চা কিংবা বয়স্কদের দিন বিনা সংকোচে। পাকা আম ক্যারোটিনসমৃদ্ধ ও স্বাদে মিষ্টি। ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য পাকা আম উপকারী। আমে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। যারা ওজন কমাতে চান তাদের একটু বুঝেশুনে খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীরা এড়িয়ে চলুন।
কাঁঠাল
কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা দুভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠাল বা এঁচোড় তরকারি হিসেবে উপাদেয়। এতে প্রচুর শর্করা ও ক্যালসিয়াম থাকে। কাঁঠালের বীচিও চমৎকার এই খাবার। পাকা কাঁঠালে ক্যারোটিন রয়েছে প্রায় চার হাজার ৭০০ মাইক্রোগ্রাম। কাঁঠালে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। যারা ওজন কমাতে চান তাদের একটু বুঝেশুনে খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীরা এড়িয়ে চলুন। যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে তারাও খাবেন না।
লিচু
ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ এ ফল অল্প সময় থাকে। এটি রসালো ও সুস্বাদু। লিচু তৃষ্ণা নিবারক। এ ফল দেহকে শীতল ও সতেজ রাখে। লিচু তাজা খাওয়াই সবচাইতে উপকারী স্বাস্থ্যের জন্য। তবে লিচুতেও অনেক বেশি ক্যালোরি থাকে। তাই একটু বুঝেশুনে খাওয়াই ভালো প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য।
জাম
কালো জামে লৌহের পরিমাণ বেশি বলে রক্তস্বল্পতায় উপকারী। পাকা জাম মিষ্টি ও মুখরোচক। জামের রসে পাকস্থলী ও যকৃৎ সুস্থ থাকে। আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাম ও এর বীচির ব্যবহার রয়েছে। জামে বেশি জৈব এসিড থাকার কারণে বেশি খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে। যারা এমনই জাম খেতে পারেন না তারা জামের রস বা জাম মাখা একটু চেখে দেখতেই পারেন।
তরমুজ
গ্রীষ্মকালে ক্রমাগত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায় তার অনেকখানি তরমুজ পূরণ করতে পারে । এর শরবত বেশ শীতল। এতে লৌহ ও ভিটামিনের পরিমাণ উচ্চমাত্রায় রয়েছে বলে রক্তস্বল্পতা ও রাতকানা রোগে ভালো। টাইফয়েডের রোগীকে বারবার তরমুজের রস দিলে জ্বরের মাত্রা কমে আসে। তরমুজে ক্যালোরি কম, চিনির মাত্রাও বেশি নয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগী ও শরীর সচেতন মানুষেরাও অনায়াসে খেতে পারেন। তরমুজ খাওয়ায় তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে।
আনারস
টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য আনারস অনেকের প্রিয়। এর জুস উপাদেয়। বাত ও জ্বরের কারণে শরীরে ব্যথা হলে আনারসের রস তা দূর করতে সাহায্য করে। এদিকে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতেও আনারসের জুড়ি নেই। আনারসে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রদাহবিরোধী পদার্থ। আনারস জুস করে বা মোরব্বা বানিয়ে খেতে তো পারেনই। সাথে আনারস দিয়ে রান্না করতে পারেন মাছ বা মুরগী। স্বাদে দারুণ ও পুষ্টিকরও বটে!
তালের শাঁস
তাল পাকে ভাদ্র মাসে। এ সময়ের ফলের মধ্যে কচি তাল বা তালের শাঁস জনপ্রিয়। এটি রসালো বলে দেহে শীতল আমেজ আনে। পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস রগিরে এড়িয়ে চলুন। শরীর সচেতন মানুষেরাও কম খাবেন।
জামরুল
হালকা সবুজ রঙের এ ফলটি নবাব ও জমিদারদের কাছে সমাদৃত ছিল। এর আকৃতি ও রং সবাইকে মুগ্ধ করে। অন্যান্য ফলের চেয়ে স্বাদে কম হলেও এতে পানির পরিমাণ প্রচুর। ডায়াবেটিস থাকলেও ফল প্রচুর পরিমাণে খাওয়া যায়। আবার ওজন নিয়ন্ত্রনেও চমৎকার।
মনে রাখবেন
কার্বাইড অথবা যে ধরনের রাসায়নিকই দেয়া হোক না কেন, যদি একটু সচেতনভাবে ফল খাওয়া যায়, তবে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। আম খাওয়ার আগে দুই ঘণ্টা অথবা তার চেয়ে বেশি কিছু সময় পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর উঠিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে কাটতে হবে। আমের আঁটি না খাওয়াই ভালো।
(ওএস/এএস/মে ১৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

২০ জুলাই ২০২৪

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test