E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

অনলাইনে ভুয়া কবিরাজি: ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার, ২৬ ভরি গয়না উদ্ধার

২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:৩২:৩২
অনলাইনে ভুয়া কবিরাজি: ৩ প্রতারক গ্রেপ্তার, ২৬ ভরি গয়না উদ্ধার

রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুরে অনলাইনে ইমু ও টিকটক একাউন্ট ব্যবহার করে কবিরাজির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে প্রতারকচক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণের গয়না এবং প্রতারণা কাজে ব্যবহার করা আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারকরা হলো- সদর উপজেলার চরযথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. মুছা মিয়া (২৯), মৃত নবাব আলীর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) ও মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. মনির হোসেন (২১)।

মনির হোসেন এ চক্রের মূলহোতা। তিনি জামালপুরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও পরিচিত। গ্রেপ্তারকৃত মুছা ও রফিকুলের দেওয়া তথ্যমতে ১৫ জুলাই অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানার মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা হতে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ৯ জুলাই গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার মাওনা এমসি বাজার এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক মুছা ও রফিকুলকে।

১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

সংবাদ সম্মেলনে জানা গেছে, ১৭ মার্চ শেরপুর জেলার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন যে, শেরপুর সরকারি গার্লস স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তার কন্যা মোছা. লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মাকে অন্য ভাইবোনদের আপন করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসছিল। লুবাবা কিছুদিন ধরে নিজে থেকেই মনে করে আসছিল যে, তার বাবা-মা তার ছোট ভাইবোনের চেয়ে তাকে কম আদর করে। এ বিষয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে সবার অজান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবা-মাকে আপন করার বিষয়ের ভিডিওগুলো দেখা শুরু করে লুবাবা।

একপর্যায়ে টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী জনৈক মো. খুরশেদ কবিরাজের সাথে লুবাবার পরিচয় হয়। খুরশিদ কবিরাজ নামে আইডিটির সঙ্গে লুবাবার পরিচয় হয়, সেটি চালাতো গ্রেপ্তারকৃত প্রতাকরা। ওই আইডি থেকে বাবা-মাকে আপন করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে গত ১ মার্চ হতে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা এবং ১০ মার্চ সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা প্রতারণামূলক ভাবে হাতিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল জামালপুর ইউনিটকে মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামি মুছা ও রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারকচক্রের মূলহোতা মনির হোসেনকে। পরবর্তীতে মনিরকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রুতি স্বর্ণালংকার এবং প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত আইফোনসহ ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, আসামিরা ইমু একাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে শুনে সমাধানের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

(আরআর/এসপি/এপ্রিল ১৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৬ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test